মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ

কোম্পানি প্রতিনিধিদের রমরমা ব্যবসা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ঔষধ। বিনিময়ে এদেশে ঢুকছে জীবননাশক ইয়াবাসহ নানা রকম মাদকদ্রব্য। এলাকার এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার ঔষধ ও বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহকৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মিয়ানমারে পাচার করলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়ছে খুবই সামান্য। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে নৈশ বাসযোগে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার সময় মরিচ্যা বিজিবি’র সদস্যরা প্রায় ৮৪ প্রকারের ১০ লক্ষ টাকার ঔষধ আটক করেছে। অপরদিকে উখিয়া-টেকনাফ বিজিবি’র সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে গত ৩ মাসে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। বিজিবি জানায়, ওই সব ঔষধের মালিকানা দাবী না করায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে দায়িত্বরত বিজিবি’র সুবেদার ফজলুল হক জানান, ইতিপূর্বে ফলিয়াপাড়া গ্রামের একটি বসতবাড়ীতে তল্লাশী চালিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত ওইসব বড়ি সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। জানা গেছে, ১৯৮০ এর দশকে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ৫কিলোমিটারের ভিতরে ড্রাগ লাইসেন্স অনুমোদন না দেওয়ার বিধি-নিষেধ থাকলেও তা বর্তমানে অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গজে উঠেছে ঔষধের দোকান। সীমান্তের মাত্র ২ কিলোমিটার দুরত্বে কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্প ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক ঔষধের দোকান। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ৫টি ঔষধের দোকান সীলগালা করে দেন। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন খ্যাত, অখ্যাত কোম্পানীর সাইনবোর্ডের আড়ালে অহরহ ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। যত বেশি বিক্রি, ততবেশি বেতন বোনাসের লোভে পড়ে ওইসব বিক্রয় প্রতিনিধি ভুয়া ড্রাগ লাইসেন্সের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার ঔষধ সামগ্রী মিয়ানমারে পাচার করে দিচ্ছে। বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে সীমান্তের কিছু ঔষধ পাচারকারী চক্রের সখ্যতা রয়েছে বিধায় তারা সীমান্ত এলাকায় ঔষধ এনে পাচারকারীদের হাতে ধরিয়ে দেয়।