টিকিটাকা যুগের বিরতি

কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক স্পেনকে কি-না দিয়েছেন। তার হাত ধরেই ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জিতে বিশ্ব ফুটবলে পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছিল স্প্যানিয়ার্ডরা। অথচ এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে তাদের। প্রশ্নের সম্মুখীন কোচ দেল বস্কের সাড়া জাগানো কৌশল ‘টিকিটাকা’। দুয়ো শুনতে হচ্ছে দেল বস্ককে। তার ওপরই স্পেনের ভরাডুবির দায় চাপাচ্ছেন অনেকে। এর জের ধরে বিবেচনা করা হতে পারে স্পেন দেল বস্কের ভবিষ্যত্ও। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ৬৩ বছর বয়সী দেল বস্কও, ‘এটা সত্যি যে, বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্টে যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে তখন টুর্নামেন্ট শেষে এর একটি প্রভাব থাকে। যদিও আমি এখনই এ ব্যাপারে চিন্তা করছি না। আমাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। তবে বিশ্লেষণের এটাই উপযুক্ত সময় নয়।’ দলকে একের পর এক সাফল্য এনে দেয়ায় গত বছর স্পেন দলে দেল বস্কেরচুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ইউরো চ্যাম্পিয়ন্সশীপ ২০১৬ পর্যন্ত দলের দায়িত্বে থাকবেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই দলের বিদায়ে এই কোচের চুক্তির মেয়াদ পুনঃবিবেচনা করার জোর সম্ভাবনার ব্যাপারটি উঠে এসেছে। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস এবং চিলির বিপক্ষে পরাজয়ের লজ্জা লুকাতে পারছেন না দেল বস্ক, ‘আমরা দু’টি ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু দু’টি ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস বা চিলির বিপক্ষে ভাল খেলতে পারিনি আমরা। এই কারণেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে আমাদের।’ পরাজয়ের মধ্যেও স্পেনের এই দলটাকে ভাল বলছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি এটা দলটা বেশ ভাল এবং ফিট। যদিও পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। এমন সিদ্ধান্তই আমরা নেবো যা স্পেন ফুটবলের জন্য ভাল। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আমার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।’ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার ব্যাপারটি কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানালেন স্পেন কোচ, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ধাপ থেকেই বিদায় নিতে হবে—এমনটি আমি কখনোই কল্পনা করিনি।’ শুধু দেল বস্ক নয় বিশ্বকাপের পর পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমে যেতে পারে স্পেনের ‘বয়স্ক’ বেশ ক’জন খেলোয়াড়ের। তালিকাটা বেশ লম্বা। এতে রয়েছেন ইকার ক্যাসিয়াস, ডেভিড ভিয়া ও জাভি হার্নান্দেজও। জাভি আলনসো ও ফার্নান্দো তোসের ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সের জন্য সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্পেন অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস, ‘আমাদের এই ব্যর্থতা ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমরা আমাদের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। এর জন্য আমরাই দায়ী। আমরা এই দুঃখ অনুধাবন করতে পারছি।’ প্রসঙ্গত, এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিটের তকমা নিয়েই এসেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ‘বি’ গ্রুপের অন্যতম ফেভারিট ছিল তারা। কিন্তু এর প্রমাণ রাখতে পারেনি স্প্যানিয়ার্ডরা। গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই গত আসরের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হারে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে চিলির বিপক্ষেও ২-০ গোলের পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। এর মধ্যদিয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় পরাশক্তি স্পেনের বিদায়। ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার তলানির দলটি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচটি দেল বস্কের শিষ্যদের জন্য নিছক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।