উখিয়ায় প্রতিবন্ধী এক পরিবারের দুঃসহ জীবনযাপন
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২০:৩৯
উখিয়ার সীমান্ত জনপদ পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী একটি পরিবার যুগ যুগ ধরে দুঃসহ জীবন-যাপন করছে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ছোট্ট একটি ঝুপড়িতে এ পরিবারটি ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাতযাপন করলেও বছরের অধিকাংশ সময় কাটছে এদের অভাব-অনটনে। সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা বরাদ্দ দিলেও এ পরিবারটির ভাগ্যে তা জুটেনি।
সরেজমিনে জানা যায়, পালংখালী ইউনিয়নের অজপাড়া গাঁ সীমান্তের নাফ নদীর কাছাকাছি অবস্থিত বালুখালী দক্ষিণপাড়া গ্রামের এক খণ্ড পি.এফ জায়গার উপর এ পরিবারটির বসবাস। ভূমিহীন ছিন্নমূল হতদরিদ্র এ পরিবারের কর্তা মৃত আতর আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোছন (৫০) একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই মেয়ে দুই পুত্রও মানসিক প্রতিবন্ধী বললেই চলে। স্ত্রী ছুরুত জামাল (৪৮) অভাব-অনটন আর মারাত্মক পীড়ায় আক্রান্তের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে এঘর ওঘর ঘুরে বেড়ায় দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন সংস্থানের জন্য। ক্ষীণ কণ্ঠে ছুরুত জামাল জানালেন, পাগল আর প্রতিবন্ধীর সংসারের ঘানি টানার মতো আর কেউ নেই। তাই অসুখ-বিসুখে জর্জরিত এ শরীর নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে ঘুরে বেড়াই। তিনি জানান, সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু আমরা কোনোদিন পাইনি। মেম্বার ফজল কাদের ভুট্টো এ কুঁড়ে ঘরটা বেঁধে না দিলে আমাদের রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মরতে হত। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ বিষয় তার অবগত ছিল না। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করার আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যাপারে সমাজ সেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হবে।