সমতল থেকে পাহাড়ে কুষ্ঠরোগী বেশি
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২০:৪১
সিলেট বিভাগে কুষ্ঠরোগীর মধ্যে নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত । আর পাহাড়ী এলাকায় কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা সমতল থেকে অনেক বেশি-এমন তথ্য জানিয়ে হীড বাংলাদেশ-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী একজন কর্মকর্তা বলেন সিলেট বিভাগে চার জেলায় বর্তমানে ২৪৯ জন কুষ্ঠরোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ১৩৩ জন রোগী, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বাকি ১০৬ জন রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্ঠ হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. জাকারিয়া মানিক। কুষ্ঠ নিয়ে কাজ করা হীড বাংলাদেশ-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী পরেশ দেবনাথ জানান, সিলেট বিভাগে হীড বাংলাদেশের আওতায় ১০ হাজার ১৪ জনকে কুষ্ঠ রোগের চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৬২ জন পুরুষ আর ৪ হাজার ৫২ জন মহিলা রয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ১৩৩ জন চিকিত্সা সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ আর ৪৪ জন মহিলা।
পরেশ কান্তি আরো জানান, সিলেট জেলার কানাইঘাট, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। প্রতি বছর সারা দেশে প্রায় চার হাজার রোগী কুষ্ঠ রোগের চিকিত্সা গ্রহণ করছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীর হাঁচি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।
কুষ্ঠরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাকারিয়া মানিক বলেন, প্রতি বছর সারা দেশে প্রায় চার হাজার কুষ্ঠরোগীকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। অপুষ্টি ও সচেতনতার অভাবে নতুন করে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ হচ্ছে শরীরে লালচে বা বাদামী রংয়ের ফ্যাকাশে দাগ দেখা যায়। দাগে কোন ধরনের অনুভূতি থাকে না। আক্রান্ত স্থান থেকে লোম ঝরে পড়ে। পরবর্তীতে শরীরে গুটি গুটি দেখা দেয়। নাক ফুলা, কানের লতি ফুলা হচ্ছে কুষ্ঠ রোগের অন্যতম লক্ষণ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সমপাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।