দালালদের দখলে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২০:৫৩
জনগণের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সেবার মান উন্নতি হয়নি কুমিল্লার চান্দিনায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নানা সমস্যায় জরজরিত হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা!
এ উপজেলায় ১টি ৩০ শয্যা ও ১টি ২০টি শয্যার পৃথক ২টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সঠিক সেবা পাচ্ছে না উপজেলাবাসী। চান্দিনার প্রায় ৪ লাখ জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার উপজেলা সদরে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মহিচাইল এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট অপর একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করলেও ন্যূনতম সেবার মান বাড়েনি ।
গত বুধবার উপজেলার মহিচাইল ২০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত একমাত্র এমবিবিএস ডাক্তার (আবাসিক চিকিত্সক) থাকলেও তিনি ছুটিতে আছেন। একমাত্র মেডিক্যাল এ্যসিস্টেন্ট থাকলেও সকাল ১০টায় তিনি হাসপাতালে আসেননি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ডাক্তারের অপেক্ষায় বসে আছে রোগীরা।
সকাল সাড়ে ১১টায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকতেই দেখা যায়, দালাল ও রোগীর মধ্যে কথা কাটাকাটি। রোগীর চিকিত্সাপত্র দালাল নিয়ে যাচ্ছে তার নির্দিষ্ট ডায়গনষ্টিক সেন্টারে।
হাসপাতালে রক্ত-কফ-প্রস্রাব ও পায়খানা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও রোগীদের ওই সকল পরীক্ষার স্লীপ হাতে দিতেই রোগীদের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ডায়গনস্টিক সেন্টারের দালালরা।
এক্স-রে বিভাগে গিয়ে দেখা যায় প্রধান এক্স-রে মেশিনের উপর এলোমেলো হয়ে আছে বিভিন্ন কাগজপত্র ও কম্পিউটার সামগ্রী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এ মেশিনটি বিকল তাই এ অবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, দালালদের চাপ সামলাতেই বাইরে এক্স-রে দিতে হয়।
ঐদিন দুপুরে উপজেলার চিলোড়া, আলিকামোড়া, থানগাঁও, কোড়েরপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ঘুরে দেখা যায় ওই সকল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তালা ঝুলছে। আশ-পাশের লোকজন বলছেন, মাঝে মধ্যে খুলতে দেখি। তাও মাত্র ১-২ ঘন্টার জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রেনিং-এ এসেছে। তবে যারা ট্রেনিং-এ না এসেও কর্মস্থলে যায়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।