রমজানে যানজটের শঙ্কা

প্রতি বছরই রমজান মাসে বিশেষ করে রমজানের শেষের ২০ দিন রাজধানীতে যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। এবার রমজান মাস আর ঈদ পড়েছে বর্ষাকালে। তারপর রাজধানীতে এখনো পুরোদমে চলছে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার ও মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারের কাজ। ফলে এবার যানজট আরো বেশি হবে এমন আশঙ্কা সবার। অবশ্য বিষয়টি এখন আর শুধুই আশঙ্কার নয়, এটা এখন বাস্তবতাও। রাজধানীর সাতরাস্তা, হাতিরঝিল, মগবাজার, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকার যানজট ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই অংশটুকু পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। বৃষ্টি এবং ঈদের কেনাকাটার জন্য যখন মানুষজন রাস্তায় বের হবেন তখন যানজট যে কেমন হবে তা কল্পনা করাও কঠিন। তাই যানজট নিয়ন্ত্রণে রেখে মানুষের চলাফেরাকে যতটা নিরুপদ্রব ও নির্ঝঞ্ঝাট রাখা যায় সেজন্য কার্যকর পরিকল্পনা করতে হবে। এজন্য কিছু প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি— রোজার মাসে বা তার কিছুদিন আগে থেকেই অফিস সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু করা যেতে পারে। এখন সূর্যোদয় হয় সকাল ৫টার একটু পরেই। রোজার মাসে সাধারণত জোহরের নামাজের বিরতি শেষে ঘণ্টাখানেক অফিসিয়াল কাজকর্ম চলে। তবে এবার কোনো রকম বিরতি ছাড়াই অফিস শেষ করা যেতে পারে দুপুর ১টায়। সুপ্রিমকোর্ট, জজকোর্ট, ব্যাংক-বীমার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম শুরু হতে পারে সকাল ৯টা থেকে। আর আধঘণ্টা বিরতি দিয়ে তা চলতে পারে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। গাড়ি চলাচলের জন্য নিতে হবে বিকল্প ব্যবস্থা। রাজধানীর যানজট এখন সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মালিবাগ থেকে তেজগাঁর সাতরাস্তা পর্যন্ত। এই এলাকাটি যানবাহন চলাচল ও প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। এই এলাকা অতিক্রম করে যেসব গণপরিবহন চলে তাদের প্রান্তসীমা হিসেবে মালিবাগ মোড় এবং তেজগাঁওর তিব্বত এলাকাকে নির্ধারণ করা। অর্থাত্ সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি থেকে যেসব গাড়ি মগবাজার এলাকা অতিক্রম করে সেগুলো মালিবাগ পর্যন্ত আসবে। আবার একই রুটের যেসব গাড়ি গাজীপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ি ফিরবে সেগুলোর প্রান্তসীমা হবে তিব্বত মোড়। মধ্যবর্তী এই অংশটুকুতে সীমিত সংখ্যক গাড়ি চলবে। এই অংশটুকু স্বতন্ত্র রুট হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাত্ গাজীপুর থেকে যেসব গাড়ি আসবে তার যাত্রীরা তিব্বত মোড় পর্যন্ত এসে নেমে যাবেন। দক্ষিণ দিক থেকে আসা গাড়ির যাত্রীরাও নেমে যাবেন মালিবাগে। ফলে মৌচাক-মগবাজার-হাতিরঝিল এলাকায় গাড়ি চলাচল অনেক কমে যাবে। গুলিস্তান এলাকা থেকে যেসব গাড়ি মগবাজার দিয়ে যায় সেগুলো রমনা এলাকার ভিআইপি রোড ব্যবহার করে সরাসরি চলে যেতে পারবে। আবার একইভাবে এই গাড়িগুলো গুলিস্তানে সরাসরি আসতেও পারবে। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটের যেসব গাড়ি মগবাজার ক্রস করে সে সব গাড়ির জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। একটি পথ হতে পারে হাতিরঝিল দিয়ে রামপুরা হয়ে মালিবাগ রেলক্রসিং পার হয়ে মালিবাগ ও কাকরাইল দিয়ে চলে যাওয়া। মালিবাগ থেকে মগবাজার এই অংশটুকু কোরবানির ঈদ পর্যন্ত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে রুট নির্ধারণ কিছুটা অসম্ভব। তবে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ ও আহ্বান জানানো যাতে তাঁরা যতোটা সম্ভব কম গাড়ি ব্যবহার করেন। রাস্তার আকার বড় রাখতে ফ্লাইওভার নির্মাণ এলাকার নির্মাণ সামগ্রী যতোটা সম্ভব চেপে রাখা। ওঠানো মাটি যেনতেনভাবে না ফেলে রেখে গুছিয়ে রাখা। আশা করা যায়, এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হলে রাজধানীতে যানজট কিছুটা কমবে এবং কমবে জনদুর্ভোগও। ঢাকা