ফরিদপুরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পঙ্গু হলো এতিম শিশু সুমন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২১:০৪
ফরিদপুর মুসলিম মিশন কর্তৃপক্ষের অবহেলায় চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেলে ১২ বছরের শিশু সুমন কাজী। সুমনের ৫ বছর বয়সে তার বাবা রহমান কাজী মারা যায়। এর বছরখানেক পরে সুমনের আশ্রয় হয় ফরিদপুর মুসলিম মিশনের এতিমখানায়।
গত বৃহস্পতিবার যোহর নামাজের জন্য অযু করতে গিয়ে পড়ে সুমনের ডান হাতটি ভেঙ্গে যায়। মুসলিম মিশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে সুমনকে মিশনের স্বাস্থ্য সহকারী সুকুমার প্রামাণিককে দিয়ে চিকিত্সা করান। হাসপাতালে না নিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে নামমাত্র চিকিত্সা দেয়ায় সুমনের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। ওই দিন রাত থেকে সুমন তার হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকে। পরদিন সকালে ব্যথা আরো বেশি হলে ফের সুমন মিশনের স্বাস্থ্য সহকারী সুকুমারের কাছে যায়। এসময় সুকুমার ব্যথার কথা শুনে তাকে চর-থাপ্পর মেরে মিশনের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে পঙ্গু সুমন জানান, পরে ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। পরদিন শুক্রবার রাতে সুমন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে অবশেষে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিত্সক অনাদী রঞ্জন মন্ডলের নেতৃত্বে একটি টিম দুইদিন চিকিত্সা দিয়ে সুমনের অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় সুমনের ডান হাতটি কেটে দেয়া হয়। চিকিত্সক অনাদী রঞ্জন মন্ডল বলেন, এধরনের রোগীদের সাধারণত ৬ ঘণ্টা পর থেকে ভাঙ্গা স্থানের কোষ ও রক্ত নষ্ট হতে থাকে। সেখানে সুমনের চিকিত্সা শুরু হয়েছে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পরে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি তার হাতটি বাদ না দেয়ার জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তার হাতটি বাদ দিতে হয়েছে। মুসলিম মিশনের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধায়ক ওমর ফারুক বলেন, আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।