সালাম মুর্শেদীর কলাম

আর্জেন্টিনার ফেরার লড়াই আজ

শিরোনাম দেখে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। কারণ বসনিয়ার বিরুদ্ধে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। তাহলে, ফেরার প্রশ্ন আসছে কেমন করে? এর উত্তরে আমি বলবো, প্রথম ম্যাচে যে আর্জেন্টিনাকে আমরা দেখেছি, সেই আর্জেন্টিনাকে কোনোভাবেই আমাদের চিরপরিচিত আর্জেন্টিনার সাথে মেলানো যাবে না। পারফরম্যান্স কিংবা খেলার স্টাইল; কোনোটা দেখেই মনে হচ্ছিল না দিয়েগো ম্যারাডোনার দল খেলছে মাঠে। ফলে, তুলনামূলক বিচারে দুর্বল বসনিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই বাড়তি ঘাম ঝরেছে তাদের। এই পারফরম্যান্স যে কোনোভাবেই বিশ্বকাপ জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, লিওনেল মেসি-আলেসান্দ্রো সাবেলারাও সেটা জানেন। তাই ইরানের বিরুদ্ধে আজ বেলো হরাইজোন্তোয় আর্জেন্টিনা চাইবে নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা ঢেলে দিয়ে নিজেদের সেরা ফর্মে ফিরতে। শক্তিমত্তা, তারকাদ্যুতি কিংবা ফুটবল ঐতিহ্যে আর্জেন্টিনার চাইতে যোজন দূরত্ব পিছিয়ে থাকলেও আমার বিশ্বাস ইরানের সামর্থ্য আছে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলার। তারা জিততে পারবে কি-না সেই বিতর্কে আমি যাবো না। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়েছে, কার্লোস কুইরোজের দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষকে শক্ত পরীক্ষার মধ্যে ফেলতে পারে। প্রথম ম্যাচে আফ্রিকান পরাশক্তি নাইজেরিয়াকে রুখে দিতে পারায় আজ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেই বেশ উজ্জীবিত থাকবে ইরান। মেসি-অ্যাগুয়েরোদের ভাবনাটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে এটি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হবার আগেই বেশ কয়েকটি আপসেটের সাক্ষী হয়েছি আমরা। আজ আরেকটি ঘটে গেলেও অবাক হব না আমি। তবে আমার মনে হয় না আজ ইরান সেই পথে হাঁটবে, যে পথে চিলি হেঁটেছিল স্পেনের বিরুদ্ধে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে চিলি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে গোলের। ম্যাচে ইতিবাচক ফল বের করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, আজকের ম্যাচের অবস্থাটা ভিন্ন। দু’দলের শক্তি আর কৌশলের পার্থক্য এতটাই যে, ইরান যদি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারে, তাহলে সেটাকেই জয়ের সমান ভাববে তারা। সুতরাং, ইরানের খেলাটা হবে পাল্টা আক্রমণ নির্ভর আর অনেক বেশি কৌশল কেন্দ্রিক। দলের কোচ কুইরোজ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিখ্যাত ক্লাবের কোচ ছিলেন। আমি নিশ্চিত, আর্জেন্টিনাকে রুখে দেয়ার দারুণ কোনো পরিকল্পনাই সাজিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এটাও সত্যি, যে কোনো কোচের যে কোনো পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়ার সামর্থ্য আছে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের। মেসি-অ্যাগুয়েরো-হিগুইন। ইউরোপের অন্যতম সেরা তিনটি ক্লাবে আক্রমণ শানানোর দায়িত্ব নিয়মিত পালন করে অভ্যস্ত তারা। তাদের যে কোনো একজনের পক্ষেই ম্যাচের ফল বের করে আনা সম্ভব। আর, তিনজন একসাথে জ্বলে উঠলে তো কথাই নেই। তবে শক্তিশালী এই আক্রমণভাগ থাকার পরেও প্রথম ম্যাচে সাবেলার কৌশল কিন্তু রক্ষণাত্মক ছিল। আজ তিনি সেপথে হয়তো হাঁটতে চাইবেন না। কারণ, নক আউট রাউন্ডে উত্তরণের পাশাপাশি নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়ার জন্যও আজকের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, প্রথম ম্যাচে শুরুতে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকা মেসি আজ তার কোটি কোটি ভক্তকে আরো ভাল কিছু উপহার দেবেন। ঐ ম্যাচে গোল পেলেও মেসি পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না। আর এই অতৃপ্তিই হয়তো মেসিকে ভাল খেলতে উত্সাহিত করতে পারে। এদিকে, ‘জি’ গ্রুপের পরাশক্তি জার্মানির প্রতিপক্ষ আজ ঘানা। শারীরিকভাবে অনেকটা জার্মানির মতোই শক্তিশালী হলেও আফ্রিকান দেশটির সুযোগ কমই দেখছি আমি। কারণ ফিটনেস, ফর্মেশন, পারফরম্যান্স এবং দলীয় সমঝোতার দারুণ এক সংমিশ্রণে জার্মান দলটি আসলেই দুর্দান্ত। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা দল বেছে নিতে বলা হলে আমি বলবো জার্মানির কথাই। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বসনিয়া-নাইজেরিয়া মুখোমুখি হচ্ছে রাতের শেষ ম্যাচে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স অনুযায়ী তাদের মধ্যে আমি এগিয়ে রাখবো বসনিয়াকে। নিতান্ত, দুর্ভাগ্যের কারণেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ থেকে ন্যূনতম পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি তারা। আক্রমণভাগে এডিন জেকোকে যদি বলের যোগান দেয়া যায়, তাহলে গোল পেয়ে যাবে তারা। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া প্রথম ম্যাচে গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল ইরানের সাথে ড্র করে মানসিকভাবে বেশ পিছিয়ে থাকবে।