ইয়াবা আসে সাগরপথে ‘পার্টস’ নামে নিরাপদে

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার চালান দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে এতদিন সড়কপথই ছিল ভরসা। কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলা থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে গোপনে ইয়াবার শত শত চালান পাঠানো হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আনাচে কানাচে। এবার রুট পাল্টেছে ইয়াবা ব্যবসার। সড়কপথের পরিবর্তে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে সমুদ্রপথ। মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে এবার বঙ্গোপসাগর হয়েছে নিরাপদ রুট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্তের বাইরে থেকে ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত বোটে ইয়াবার চালান বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় আসে। এরপর বোট পরিবর্তন করে আরেকটি বোটে তুলে তা সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে ফাঁকি দিতে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ফিশিং ট্রলার। কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য ইয়াবাকে ছদ্মনামে ‘পার্টস’ বলে ডাকা হয়। চট্টগ্রামে এসব চালান খালাস করে মজুদ করা হয় কর্ণফুলী নদীর তীর সংলগ্ন বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে। পরবর্তীতে পুনরায় বিভিন্ন নৌযানের মাধ্যমে তা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। গতকাল শুক্রবার নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা ফিশারিঘাট এলাকা থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ত্রিশ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. আক্তার হোসেন (৪২) ও মো. আজম (৫০)। ইয়াবাগুলো ফিশারিঘাট ইকবাল রোডের ‘আজম মেকানিক্স’ নামে একটি নীল রংয়ের প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। পুলিশ মোট ১৫০টি প্যাকেট জব্দ করে। প্রতি প্যাকেটে দুইশ’ পিস ইয়াবা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছে, গত ১৪ জুন এফভি সাগর নামে একটি ফিশিং বোট নিয়ে তারা সাগরে মাছ ধরার নাম করে টেকনাফ যায়। দু’দিন পরে রাত ১০টার দিকে টেকনাফের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে একটি বোট এসে তাদের বোটের কাছে ভীড়ে। ওই বোটের লোকজন এফভি সাগরের মালিক আলম মাঝির সাথে কথাবার্তা বলে কিছু প্যাকেট দিয়ে যায়। তারপর ওই বোট চলে যায়। এফভি সাগর গতকাল ভোর ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে আসে। এসময় আলম মাঝি বোটের খালাসি মো. আক্তারকে প্যাকেটগুলো মো. আজমের ইঞ্জিন মেরামতের দোকানে রেখে আসার নির্দেশ দেয়। খালাসি আক্তার মেকানিক আজমকে ফোন করে দোকান খুলতে বলে সেখানে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. বাবুল আক্তার ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, স্থলপথে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর তত্পরতার কারণে এখন সমুদ্রপথে ইয়াবা বহন করা হচ্ছে। একাজে ফিশিং বোটসমূহ ব্যবহূত হয়ে আসছে। বহনকারীরা ইয়াবাকে ‘পার্টস’ বলে যাতে কেউ বুঝতে না পারে। তিনি বলেন, বোটের মালিক আলম মাঝিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে পাওয়া গেলে সমুদ্রপথে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িতদের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।