এনামুল হক শামীমের ওপর গুলি
তিন অস্ত্রধারীর
ছবি গোয়েন্দা
পুলিশের হাতে
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২২:১৩
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক শামীমকে হত্যাচেষ্টাকারী তিন দুর্বৃত্তের ছবি পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানমন্ডি ৯/এ সড়কের ইবনে সিনা হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় তিন তরুণের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। ঘটনার দিনই পুলিশ সেই ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। ঐ ফুটেজ থেকে অস্ত্রধারী তিন দুর্বৃত্তকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে এ গুলির ঘটনার পর শুক্রবার রাতে শামীমের একজন নিকট আত্মীয় বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। ডিবি সূত্র জানায়, এই মামলার তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করা হবে। শামীমকে হত্যা চেষ্টার কারণও খুঁজে পাচ্ছে না কেউ। এনামুল হক শামীম নিজেও কোন কারণ পাচ্ছেন না বা এজন্য দায়ী কারো নাম বা সংঘবদ্ধ গ্রুপের কথা বলতে পারছেন না। এখনো তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন।
ডিবি সূত্র জানায়, ইবনে সিনা হাসপাতালের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের গেটের ওপরে লাগানো সিসি ক্যামেরায় পলায়নরত অস্ত্রধারীদের ছবি ধরা পড়ে। ভিডিও দৃশ্যে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের তিন আরোহীর মাঝখানে বসা তরুণ অস্ত্র উঁচিয়ে চলে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলটি খয়েরি রঙের। মোটরসাইকেল আরোহী তিন জনই অল্প বয়সী। ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলেছিলেন, অস্ত্রধারীদের বয়স ২২-২৬ বছরের মধ্যে হবে। কয়েক সেকেন্ডের এই ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে অস্ত্রধারীদের পরনে জিন্সের প্যান্ট ও হাফ হাতা শার্ট।
এনামুল হক শামীমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শামীম স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাড়াও গ্রীন ইউনিভার্সিটি ও রাজশাহীতে সদ্য চালু হওয়া বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটির সাথে সম্পৃক্ত। ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীক কোন দ্বন্দ্ব কারো সঙ্গে ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শামীমের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, প্রতিবেশী চাচা হওয়ায় জেড এইচ শিকদারের সঙ্গে এক সময় ঘনিষ্ঠতা ছিল শামীমের। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক মারা যাবার পর তার আসনে শিকদার কন্যা সংসদ সদস্য হিসাবে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ওই আসনে শামীম নিজেও মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেন। একারণে শিকদার গ্রুপের সঙ্গে তার টানাপড়েন শুরু হয়। শামীম আগে শিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক থাকলেও ওই ঘটনার পর ব্যাংক ছেড়ে আসেন। শামীমের ঘনিষ্ঠ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির এক নেতা বলেন, তার সঙ্গে কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে, এমন কোন কথা তিনি কখনো আলোচনা করেননি। তাই কেউ কারা তাকে হত্যা চেষ্টা করতে পারে তার অনুমান করতে পারছে না।
এদিকে ধানমন্ডির স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন বাবুকে ইয়াবাসহ গ্রেফতারের পর তাত্ক্ষণিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়ার বিষয়ে এনামুল হক শামীমের যোগসাজশ রয়েছে। একারণে নাজিম উদ্দিন বাবুর ক্যাডাররা শামীমকে টার্গেট করতে পারে সন্দেহ করছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কারা এবং কি কারণে এনামুল হক শামীমকে হত্যার চেষ্টা করেছিল তা খোঁজ করা হচ্ছে। কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে পুলিশ কাজ করছে। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।