সুফিয়া কামালের জন্মদিনে ছায়ানটে বর্ষার গান
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৪, ২২:২৬
জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন ছিল শুক্রবার। দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত এই কবির প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। আর জন্মদিনে তাকে স্মরণ করে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট আয়োজন করে বর্ষার গানের আসর। সকালে বৃষ্টিঝরা দিনের সন্ধ্যায় কবিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো এ স্মরণানুষ্ঠানে গানের সঙ্গে ছিল পাঠ, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা। গানের সুরে, কবিতার ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে দর্শক-শ্রোতায় ভরপুর ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তন।
রেজোয়ান আলীর সুললিত কণ্ঠে খেয়াল রাগে কেদার মল্লার পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় সান্ধ্যকালীন এ গানের আসর। এরপর সুফিয়া কামালকে নিবেদিত কত্থনে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক। কথাশেষে পরিবেশিত হয় ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত নৃত্যগীত। ধরনীর গগনের মিলনের ছন্দে গানের সুরে অভিব্যক্তির সঙ্গে মুদ্রার প্রকাশে উপস্থাপিত হয় নৃত্য। লাইসা আহমদ লিসার কণ্ঠে সঙ্গীত হয় আমারে যদি জাগালে আজি নাথ। মেঘে মেঘে অসীম আকাশ গানটি পরিবেশন করেন রেজাউল করিম। বর্ষার আগমনী ধ্বনী জানিয়ে অভয়া দত্ত গেয়ে শোনান আবার এসেছে আষাঢ়। এছাড়াও একক কণ্ঠে গান শোনান সত্যম কুমার দেবনাথ, মোহিত খান, আফরোজা খান, সুমা রায়, অসীম দত্ত, তানিয়া মান্নান, ইফ্্ফাত আরা দেওয়ান, মইদুল ইসলাম, ডালিয়া নওশীন ও আবুল কালাম আজাদ। তাদের পরিবশিত গানগুলো ছিল নিবিড় মেঘের ছায়ায়, পরদেশী মেঘ যাওরে ফিরে, গগনে মেঘ চমকিছে দামিনী, বধূ এমন বাদল দিনে, কোথায় আলোকোথায় ওরে আলো, পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে, আজি তোমায় আবার, নিশি রাতে রিমঝিম, মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর ও ভরা গাঙে নদীর স্রোতে। অনুষ্ঠানে পাঠ এবং কবিতা আবৃত্তি করেন কৃষ্টি হেফাজ ও লিয়াকত খান। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় বর্ষার গানের আসর। মাঝে ছিল সমবেত কণ্ঠের গান এবং সম্মেলক নৃত্যগীতের পরিবেশনা।