ফুঁসছে ইংলিশ গণমাধ্যম
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৪, ২০:৩৮
ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের টিকে থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু আর রইল না। শুক্রবার রাতে ইতালিকে কোস্টারিকা ১-০ গোলে হারানোর মধ্যদিয়ে শেষ হয়ে গেল রয় হডসনের দলের আশা। ১৯৫৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ থেকে গ্রুপপর্ব থেকে ইংলিশদের বিদায় নেয়ায় দেশটির মিডিয়ার চলছে চরম সমালোচনা। চলছে দলের ভরাডুবির ময়নাতদন্ত।
ইতালির বিপক্ষে ২-১ গোলে হার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করে ‘মৃত্যুকূপ’ ‘ডি’ গ্রুপের দল ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচেও উরুগুয়ের কাছে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরুতে পারেনি ইংলিশরা। এবারও হারতে হয় ২-১ গোলে। সম ব্যবধানের টানা দুই পরাজয়ের পরও ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সম্ভাবনা সুতোয় ঝুলছিল। তারা তাকিয়ে ছিল ইতালি-কোস্টারিকার লড়াইয়ের দিকে। ম্যাচটিতে ইতালি জিততে পারলে এই সম্ভাবনা আরও দানা বাঁধতে পারতো। কিন্তু বিধি বাম। উল্টো কোস্টারিকা ইতালিকে ১-০ গোলে হারানোয় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের টিকে থাকার আর কোনো সম্ভাবনাই অবশিষ্ট রইল না। গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষের দল কোস্টারিকার বিপক্ষে শেষ লড়াইটা তাদের জন্য এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
ইংল্যান্ডের বিদায় নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের হেড লাইনটা ছিল এ রকম, ‘বিদায়, ইংল্যান্ড’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে ইতালির বিপক্ষে কোস্টারিকার জয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি তাদের দ্রুততম প্রস্থান। গার্ডিয়ানে ‘আরও একটি বিশ্বকাপ, আরও একটি অধঃপতন’ হেডলাইনে আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত বিশ্লেষণে এটা বলা যায় যে, ইংল্যান্ডের কতটুকু উন্নতি হয়েছে অধিকাংশ সমর্থক এবারের আসরে এটাই দেখতে চেয়েছিল। দলের ভবিষ্যত্ দেখতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু উরুগুয়ের কাছে হারের মধ্যদিয়েই হতাশা বরণ করতে হয়েছে তাদের।’
কোস্টারিকার কাছে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হলেও লড়াইটাতে কোচ রয় হডসনের ভবিষ্যত্ ও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ নির্ভর করছে বলে গার্ডিয়ানের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ম্যাচটিতে কিছুটা সম্মান হলেও রক্ষা করার সুযোগ আছে। কোস্টারিকাকে হারানোর মধ্যদিয়ে কিছুটা গৌরব হলেও উদ্ধার করতে পারে তারা।’
দ্যা সান পত্রিকার সংবাদে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলকে দায়ী করে সানের এক বিশ্লেষক বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমি বলছি জাতীয় দলের ভাল না করার কারণ হলো প্রিমিয়ার লিগ। সংশ্লিষ্টদের অনিয়ন্ত্রণীয় লোভ, ব্যক্তিগত আত্মতুষ্টি, অর্থহীন সিদ্ধান্ত এবং ক্লাবগুলোর অবিবেচকের মতো টাকা ব্যয় সবকিছুই বৃথা। এগুলোতে জাতীয় দলের কোনো স্বার্থ নেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপে দলের হাস্যকর ব্যর্থতায় ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএ) সবাই দুয়ো দেবে। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আসল চেহারাটাই দেখা গেছে।’
ডেইলি মেইলের এক লেখায় ইতালির বিপক্ষে কোস্টারিকার দারুণ প্রশংসা করা হয়েছে। কোস্টারিকাকে ‘অসাধারণ ও ভয়হীন’ উল্লেখ করে গ্রুপ ‘ডি’ সম্পর্কে এমনটাই বলা হয়েছে, ‘ইংল্যান্ড, ইতালি, উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার গ্রুপটিতে তিনটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল রয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ছোট দেশ কোস্টারিকা। আমরা মনে করেছিলাম গ্রুপ ‘ডি’তে তিনটি দলই রয়েছে, যারা লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এই ধারণা ভুল। কেননা আমরা কখনো মনে করিনি গ্রুপপর্ব থেকেই ইংল্যান্ড বিদায় নেবে।’
দ্যা টেলিগ্রাফের হেডলাইনটা সাদাসিধেই ছিল, ‘ইংল্যান্ডের লজ্জা’। যদিও প্রতিবেদক হেনরি উইন্টার ব্যর্থতার মাঝেও কোচ রয় হডসনকে সমর্থন করেছেন, ‘হডসন অবশ্যই ইংল্যান্ডের কোচ থাকবেন। কারণ তিনি ধীরে ধীরে দলে উন্নতি আনছেন। তার খেলার ধরনও অধিকতর ভাল।’
ডেইলি মিররে ইংল্যান্ডের সাবেক ফুল-ব্যাক স্টুয়ার্ট পিয়ার্স বলেছেন, ‘আমাদের দিকে অন্য দেশগুলো তাকিয়ে আছে এবং হাসছে।’ বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ইংল্যান্ড যা করছে এর সবই ভুল বলে মনে করছেন সাবেক এই ফুটবলার, ‘অন্য দলগুলোর অধিকাংশ খেলোয়াড়ই তরুণ। তারা তারুণ্যে প্রাধান্য দিচ্ছে বেশি। আমাদের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক জয়ও পাচ্ছে। কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের গত ষাট বছরের মধ্যে বড় পর্যায়ের কোনো অর্জন নেই। ১৯৮৪ সাল থেকে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়েও আমরা কিছু জিতিনি।’
এক্সপ্রেস ইংল্যান্ডের এই ভরাডুবিকে রহস্যজনক চিত্র হিসেবে দেখছে, ‘এই ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে বর্ণহীন পূর্বাভাসই পাওয়া গেছে। যেমনটা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এটা এমন একটি টুর্নামেন্ট যেখানে আগেভাগেই ইংল্যান্ডের সব হিসাব পেয়ে গেছে। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলটা সঠিকই ছিল। নিখুঁত ও বিশদ আকারে প্রস্তুতিও নিয়েছিল দল। তবে তাদের মধ্যে সতর্কতা ছিল না। তারা অনেকটা নিরুদ্বেগ ছিল। ছোট দলগুলোর খেলোয়াড়রা যেমন খেলে ইংল্যান্ডের ফুটবল অবকাঠামো এখনো এমনই মনে হচ্ছে।’
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এটা বুঝা খুবই সাধারণ যে, ইংল্যান্ড দল হিসেবে খুব ভাল নয়। তাদের দলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যাপ্ত খেলোয়াড় নেই, যারা বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দলের চমক উপহার দিতে পারে, সম্মান বয়ে আনতে পারে।’