ভ্যালেন্সিয়ার দাপটে ইকুয়েডরের প্রথম জয়

‘ছোট’ দলের ‘বড়’ তিনি। ক্লাব ফুটবল মাতানো সেই ভ্যালেন্সিয়া এবার মাতালেন বিশ্বকাপ। ম্যাচে ইকুয়েডরের দুইটি গোলই এসেছে ২৫ বছর বয়সী ভ্যালেন্সিয়ার কাছ থেকে। ফলাফল, হন্ডুরাসকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সুইজারল্যান্ডকে হটিয়ে ‘ই’-গ্রুপে ফ্রান্সের পরে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইকুয়েডর। গ্রুপ পর্যায়ে এটাই দলটির প্রথম জয়। যদিও ৩১ মিনিটে কার্লো কস্টলির গোলে হন্ডুরাস বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়ের ইতিহাসের দিকে এগিয়ে যাবার স্বপ্নে বিভোর ছিল। কিন্তু তিন মিনিট পরেই ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচে সমতা ফেরালে হন্ডুরাসের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। ওয়াল্টার আয়োভিসের ফ্রি-কিক থেকে ২৫ মিনিটে মাথা ছোঁয়ালে ভ্যালেন্সিয়ার বল জালের ঠিকানা খুঁজে পায়। আর এর সাথে ইকুয়েডরের এবারের বিশ্বকাপে প্রথম জয়ও নিশ্চিত হয়। এই গোলের ফলে তিন দুই ম্যাচে তিন গোল করে ভ্যালেন্সিয়া এখন করিম বেনজেমা, রবিন ফন পার্সি, থমাস মুলার এবং আরিয়ের রবেনের সাথে তিন গোল নিয়ে টুর্ণামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারের তালিকায় জায়গা করে নিলেন। একইসাথে গোল ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে পাশ কাটিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এর আগে গ্রুপের অপর ম্যাচে ফ্রান্স ৫-২ গোলে সুইজারল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করায় এই গ্রুপে এখন যেকোন দলের জন্য পরের রাউন্ডের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল। দুটি ম্যাচে পরাজিত হওয়া সত্বেও এই সুযোগ এখনো হন্ডুরাসের সামনে রয়েছে। তবে তার জন্য তাদেরকে বড় ব্যবধানে সুইসদের পরাজিত করতে হবে এবং অপর ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ইকুয়েডরকে হারতে হবে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের কাছে পরাজিত এই দুইটি দল গতকাল ম্যাচের শুরুতেও কিছুটা নার্ভাস ছিল। ম্যাচের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের মধ্যে সেই চাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের গোল এরিয়ার মধ্যে ডিফেন্ডার হুয়ান পারেডেস অধিনায়ক কস্টলিকে ফেলে দিলে হন্ডুরাস পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান রেফারী বেঞ্জামিন উইলিয়ামস তা নাকচ করে দেন। এর পরমুহূর্তেই ইকুয়েডর ম্যাচে এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ফ্রিকসন এরাজোর লম্বা বল থেকে ভ্যালেন্সিয়া সামনে গোলরক্ষক নোয়েল ভারাডারেসকে একা পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। হন্ডুরাসের পক্ষে প্রথম সুযোগটি পোস্টের সামনে থেকে হেডের মাধ্যমে নষ্ট করেন ভিক্টর বারনারডেজ। এর চার মিনিট পরে কস্টলি বাম পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন। ১৯৮২ সালে প্রথম বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের পরে এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচটি ম্যাচে এটি ছিল হন্ডুরাসের প্রথম গোল। যদিও এই লিড বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরে হুয়ান পারেডেসের ডিফ্লেকটেড বল থেকে ভ্যালেন্সিয়া অসাধারণ দক্ষতায় দলের পক্ষে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধ অবশ্য হন্ডুরাসের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই শেষ হয়। বারনারডেজের শক্তিশালী ফ্রি-কিক ইকুয়েডরের গোলরক্ষক আলেক্সান্দার ডমিনগুয়েজ ফিরিয়ে দিলে জেরি বেনস্টোন ফিরতি বলে গোল করলে হ্যান্ডবলের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এর আগে কস্টলির একটি হেড পোস্টে লেগে ফেরত আসলে হন্ডুরাসের পুনরায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি। বিরতির পরে এবার ইকুয়েডরের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন উইলিয়ামস। হন্ডুরাসের ডিফেন্ডার মেইনোর ফিগুয়েরোয়া গোল এরিয়ার মধ্যে ফিলিপ কেইসেডোকে ফেলে দিলে ইকুয়েডর পেনাল্টির জোর আবেদন জানিয়েছিল। যদিও এই আবেদনে বঞ্চিত ইকুয়েডরকে খুব বেশীক্ষণ হতাশায় থাকতে হয়নি। ৬৫ মিনিটে আয়োভির দারুণ একটি পাস থেকে ভ্যালেন্সিয়া দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করলে তা আর শোধ করা হয়নি হন্ডুরাসের। -বাসস/ওয়েবসাইট