মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতায় রোধ হচ্ছে না খাদ্যে ভেজাল
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৪, ২১:৫৫
মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতার কারণেই খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) উদ্যোগে আয়োজিত ‘খাদ্যে বিষাক্ততা, বিদ্যমান আইনসমূহ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা এ অভিযোগ করেন।
বৈঠকে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য বন্ধ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। খাদ্যে নিরাপত্তা ও মান রক্ষার দায়িত্বে সরকারের সাতটি মন্ত্রণালয় থাকলেও এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ফলে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও মান রক্ষায় ২৩টি আইন থাকলেও এগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে। তাই নিরাপদ খাদ্যের জন্য আইনগুলোর বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মোজাহারুল হক বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও জনগণের জানমাল রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র তা পারছে না।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় খেলাঘরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। তবে এর জন্য রাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে দায়ী। আপেল কমলা বাদ দিয়ে কেন আম লিচুর উপর অভিযান হচ্ছে? এর উদ্দেশ্য কি?
পবা’র সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বছরে প্রায় ৭৯ লাখ মানুষ মারা যায় অসংক্রামক রোগের কারণে। খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কারণেই এ রোগ সৃষ্টি হয়।
ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ডিএইচইএন) এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী বলেন, নির্বিচারে ফল নষ্ট করার মহোত্সব থেকে সরে আসতে হবে। কারণ এর ফলে লাখ লাখ টাকার ফল নষ্ট করা হচ্ছে। আর এতে করে ক্ষুদ্র ও দরিদ্র ফল বিক্রেতারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ফরমালিন শনাক্তকারী যন্ত্রটির মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খেলাঘরের সম্পাদক লাভলী চৌধুরী।
ফ্রেশ ফ্রুটস কনজুমারস এসোসিয়েশন
এদিকে ফ্রেশ ফ্রুটস কনজুমারস এসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভা শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, ফলে উত্কৃষ্ট মানের পুষ্টি গুণ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৈনন্দিন এক জন লোকের ১৫০ গ্রাম ফল গ্রহণ করা উচিত। অথচ দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলে ফরমালিন আছে বলে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ফলে অনেকেই ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ী পথে বসতে শুরু করেছে।
বক্তারা অবিলম্বে ফরমালিন পরীক্ষায় সঠিক যন্ত্র ও সঠিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করে ফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের আহবায়ক ড.আবদুল ওয়াদুদ।