সন্ত্রাসী ধরতে বাড়ানো হচ্ছে সিসিটিভির ব্যবহার
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৪, ২২:৫৬
টহল পুলিশ তার চাকরির স্বার্থে (সন্ত্রাসী ধরতে ব্যর্থ হলে) অনেক সময় মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য হয়। কিন্তু যন্ত্র কখনও মিথ্যা বলে না। সঠিক তথ্যটাই ধারণ করে। সেখানে গোজামিল দেয়ার কোন সুযোগ নেই। অপরদিকে সময়ের ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ধরন পাল্টেছে। পাল্টেছে কৌশল। সিসিটিভি ক্যামেরা প্রসঙ্গে এ কথাগুলো বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা।
রাজধানীতে আসন্ন রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এ প্রস্তুতির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো। পাশাপাশি যেসব বিপণী বিতান ও মার্কেটে এখন বসানো হয়নি সিসিটিভি ক্যামেরা- সেখানে দ্রুত বসানোর জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে রমজানে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় শহরের বিপণী বিতান ও শপিংমলগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিন্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান নগরীতে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার কারণে অনেক সন্ত্রাসীকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিসিটিভি ক্যামেরার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেট, বিপণী বিতান ও বহুতল আবাসিক ভবন মালিকদের সিসিসিভি বসানোর জন্য (যারা এখন বসাননি) বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ১৫ জন। এতে অপরাধী ধরতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে বলেই ডিএমপি সিসিটিভি ক্যামেরার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে কীনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ ব্যর্থ এমনটা বলা যাবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ ব্যাপক তত্পর রয়েছে। আর এ তত্পরতার কারণেই অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেকটা ভাল। সময়টা প্রযৃক্তির। এ কারণেই পুলিশ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে উদ্যোগ নিচ্ছে ডিএমপি। আশা করা যায় নগরবাসী এর সুফল পাবে।
অপরদিকে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য গতকাল রবিবার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার বলেন, নগরীর অভিযাত এলাকার সিংহভাগ ভবন ও মার্কেটে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। আর এ কারণেই গত বছর গুলশানে যুবলীগ নেতা মিক্লী হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। সিসিটিভির বদলৌতে দেশবাসীও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখেছে হত্যার দৃশ্য।
তিনি আরো বলেন, তিন দিন আগে ধানমন্ডি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম। এ দৃশ্যও সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। দেখা গেছে তিন সন্ত্রাসী এ ঘটনায় জড়িত ছিল। তাদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আশা করা যায় তারাও দ্রুত গ্রেফতার হবে।
তৌফিক এহসান আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ ঢাকা মহানগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা, ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা, যানজট নিরসনসহ আনুষঙ্গিক সমস্যাগুলোর ব্যাপারে প্রতি বছর যেভাবে প্রশাসন সহযোগিতা করতো ,আমরা আশা করি এবারও তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তিনি ক্রেতা সাধারণের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরের ছোট-বড় সকল বিপণী বিতানগুলোর সামনে ও আশেপাশের প্রবেশপথগুলো হকার মুক্ত রাখার ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।