মিসরে ব্রাদারহুডের প্রধানসহ ১৮৩ নেতাকর্মীর ফাঁসি বহাল

মিসরে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ আল বাদাইসহ ১৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির একটি আদালত। গত বছর একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার অভিযোগে গতকাল এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়। যদিও এর আগে ৬৮৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এবারের রায়ে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। গতকাল শনিবার মিসরের দক্ষিণের মিনা শহরের একটি আদালত এই রায় দেয়। রায়ে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। গত এপ্রিলে ৬৮৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। গত বছরের জুলাইয়ে ব্রাদারহুড সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দলটির শত শত নেতা-কর্মীকে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান হিশাম কাসিম বলেন, এই আদালতের বিচারপতি সাঈদ ইউসেফ সাবরি ‘কসাই’ নামে পরিচিত। তিনি সঠিক প্রক্রিয়ায় এই রায় দেননি। আসামিদের কথাও শোনেননি। এধরনের রায় আন্তর্জাতিকভাবে মিসরের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে। অর্থনীতিতেও একটা বিরুপ প্রভাব ফেলবে। অভিযুক্তরা গত বছরের আগষ্টে মিনায় একটি পুলিশি থানায় হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন। ওই একই দিন কায়রোতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকশত ব্রাদারহুড সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। অভিযুক্তদের আইনজীবী এই গণবিচারকে নাটক বলে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। গণবিচারের প্রাথমিক রায়ের পর ওই মৃত্যুদণ্ডাদেশ পর্যালোচনার জন্য মিসরের প্রধান মুফতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। মুফতির মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশ করা ওই রায় মিসরীয় বিচার ব্যবস্থার প্রথম ধাপ। মামলাটি শেষ পর্যন্ত আপিল আদালতে যেতে পারে। এদিকে, গত বছর সংঘটিত এক প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িত থাকার দায়ে আরেকটি মামলার রায়ে গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ বাদাইসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।