চট্টগ্রামে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়নি ১৯ বছরেও
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৪, ২৩:০৩
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম মহানগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়নি ১৯ বছরেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছর নগরীতে জলাবদ্ধতার পরিমাণ বাড়বেই, কমবে না। চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বের বিরাট অংশ বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদী ঘেরা; কিন্তু কর্ণফুলী নদী কিংবা বঙ্গোপসাগরে নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাল, নালা-নর্দমা নেই। একইভাবে নগরীর অভ্যন্তরেও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সংখ্যক খাল নালা-নর্দমা নেই বললেই চলে। ফলে প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিরাট অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
১৯৯৫ সালে নগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান করা হলেও এখনো বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। জানা যায়, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নগরীতে ৬৪টি ছোট-বড় খালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ খালগুলো দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার। মাস্টার প্ল্যানে আরো বেশ কয়েকটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি খাল খননের কথা বলা হয়েছে। পুরনো খালগুলো খনন ও পুনঃখনন এবং নতুন খাল খননের জন্য গত ১৯ বছরে সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন থেকে কোন জোরালো উদ্যোগ দেখা যায়নি। একইভাবে সরকারও এ খাতে তেমন একটা বরাদ্দ দেয়নি। শুধু ২০১২ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি খাল খননের জন্য প্রায় তিনশ কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিলেও তা ঝুলে আছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের সাথে সাথে এর মাস্টার প্ল্যানের মেয়াদও আগামী বছর শেষ হবে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সরকারের ১৬টি উন্নয়ন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে গাইডলাইন দেয়া হলেও কোন সংস্থাই এর আলোকে কোন কাজ করেনি।
ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের ন্যূনতম বাস্তবায়ন না করে বরং মাস্টার প্ল্যানে নেই এমন সকল প্রকল্প নগরীতে বাস্তবায়নের উদ্যোগের অভিযোগ ইতিমধ্যে উঠেছে। চট্টগ্রামের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও বিশিষ্টজনদের সংগঠন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন-এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একাধিক সাংবাদিক সম্মেলনে নগরীর যানজট নিরসনে গৃহীত ফ্লাইওভার নির্মাণে মাস্টার প্ল্যানের ভ্রূক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন কোন একটি সংস্থার একক দায়িত্ব না হলেও প্রত্যেক সংস্থা তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে করুণীয় যথাযথভাবে পালন করলে এর বাস্তবায়ন হবে; কিন্তু বাস্তবে তা কেউ করছে না।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে খাল, নালা-নর্দমা নির্মাণ ও সংস্কার করা না হলেও প্রতিনিয়ত নগরীতে বাসা, বাড়ি, স্থাপনা বেড়েই চলেছে। নগরীর বিভিন্ন অসংখ্য খাল-বিল দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। উক্ত স্থানসমূহে গড়ে উঠছে বাসা, বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সাধারণত যত খোলা জায়গা থাকবে তত বেশি পরিমাণ পানি মাটির নীচে চলে যাবে। আবার খোলা জায়গা কমে গেলে পানি গড়িয়ে অপেক্ষাকৃত নিচু স্থানের দিকে ধাবিত হবে। তাছাড়া বিল, নালা-নর্দমা এবং জলাধারও বিশাল পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করে রাখে।
চট্টগ্রাম শহরে দিন দিন আচ্ছাদিত অংশের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাটির নীচে পানি চলে যাওয়ার মাত্রা অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে পানি গড়িয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে; কিন্তু গড়িয়ে পড়াপানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত খাল-নালা নর্দমা না থাকায় তা উপচে পড়ে বাসা, বাড়ি, সড়কসহ যথাসম্ভব নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে বলা হলেও কোন সংস্থাই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় সংস্থাসমূহের পক্ষে এর বাস্তবায়নে অর্থায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় সরকারকে এ ব্যাপারে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান।