তরুণ নির্মাতাদের ভেতরে সমন্বয়হীনতা!
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৪, ২০:৪৮
দেবাশীষ বিশ্বাসের ঔদ্ধত্যপূর্ণ সংলাপ!
অনন্য মামুনের সদস্যপদ বাতিল!
একই পেশার কর্মীদের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা ভালো। কিন্তু এগুলোকে ছাপিয়ে বিষয়টি কাদা ছোড়াছুড়ির এমন পর্যায়ে চলে এসেছে, তা যেন ক্রমেই নোংরামিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের ছবি ‘তারকাঁটা’ রিলিজের পর স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সমালোচনা প্রকাশিত হলে সেখানে ‘চলচ্চিত্র তার বাবার সম্পত্তি’, ‘রাজের ছবি তো চলচ্চিত্রের ক্যাটাগরিতেই পড়ে না’ ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে তির্যক মন্তব্য করে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন দেবাশীষ বিশ্বাস। এমনকি এ নিয়ে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের এক প্রতিবেদনেও তিনি যাচ্ছেতাই বলে ‘তারকাঁটা’ নিয়ে কটু কথা বলেন। পাল্টা জবাবে দেবাশীষ বিশ্বাস ডিজিটাল ফর্মেটের নামে যে নিম্নমানের ছবি নির্মাণ করেছেন, তা ‘নকল গল্প এবং বস্তাপচা প্রডাকশন’ এমন প্রত্যুত্তর দিয়েছেন রাজসহ অনেকেই। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় এ ধরনের খবরের ভিত্তিতে আর যাই হোক একজন সাধারণ দর্শক খুব সহজেই বুঝে গেছেন তরুণ এই নির্মাতাদের ভেতরে কোনো ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নেই।
চলচ্চিত্রের উন্নয়ন বা দর্শক ফেরানোর প্রকল্পে তরুণ নির্মাতারা খুব যে সফল হচ্ছেন তা নয়, তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ভেতরে ওপার বাংলার চলচ্চিত্রের সাথে যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ কালে অনন্য মামুনকে নিয়েও কম ব্যঙ্গ করেননি সহকর্মীরা। এক্ষেত্রে কেউ কেউ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আবার কটুক্তি করেছেন। অবশেষে পরিচালক সমিতি তার সদস্যপদ বাতিল করেছেন এমন খবরও পাওয়া গেছে। যদিও নির্মাতা অনন্য মামুন জানিয়েছেন এখনও তিনি সদস্যপদ বাতিলের কোনো চিঠি হাতে পাননি। তবে এই ধরনের নিন্দা আর তির্যক মন্তব্যের ভেতরে নির্মাতারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনছেন তা বলাই বাহুল্য। এ কারণে চলচ্চিত্রের এই নতুন আলোর সম্ভাবনাকালে নির্মাতাদের এমন আচরণ সিনিয়রদের অবাক করেছে। এরই ভেতরে বরেণ্য নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন মন্তব্য করেছেন, ‘ওদের কারোরই এখন পর্যন্ত কোনো চলচ্চিত্র নিয়ে গর্ব করার সময় আসেনি। এখনই যদি নিজেদের বাপ ভাইদের বিক্রি করে কথা বলা শুরু করে। তো এর চেয়ে আর বড় লজ্জার কী হতে পারে।’
এর ভেতরে মোস্তফা কামাল রাজ তার অভিমানসুলভ আচরণেই বারবার বলছেন তিনি আর চলচ্চিত্র তৈরি করবেন না। চলচ্চিত্র নির্মাণের যাবতীয় ইচ্ছা তার নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি আগামী ১০ বছর সবার নির্মাণ দেখতে চাই।’ তবে রাজের এই বক্তব্য আসলে কতটা সত্য বা কতটা বাস্তবে কার্যকর হয় তা দেখার বিষয়। কারণ এর আগে অনেকেই সিনেমা থেকে একাধিকবার ইস্তফা দেবার নাম করে আবারও ফিরে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও একই পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন কি না তা বলা মুশকিল।
এছাড়া দুই বাংলার চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে দুই নীতিতে পড়ে সকলেই ব্যক্তিগত আক্রোশকেই হাসিল করার চেষ্টা করছেন। কারণ একদিকে ছবি আমদানির ক্ষেত্রে ‘যুদ্ধশিশু’ যখন দেশের হলে প্রদর্শিত হচ্ছে তখন তা বাহবা কুড়াচ্ছে বা তা নিয়ে কোনো তর্ক হচ্ছে না। অন্যদিকে দুই বাংলার নামে অনন্য মামুন কেন আরও দেশীয় তারকা নিলেন না বা ওপার বাংলার পোস্টারে কেন তার নাম নেই—এ নিয়ে তর্ক তুলছেন সহকর্মীরাই। মূলত সুষ্ঠু কোনো সমন্বয় নেই নির্মাতাদের ভেতরেই। এছাড়া বাংলাদেশি তারকারা ঠিক কোন নিয়মে বা কাদের অনুমতিতে ওপার বাংলার ছবিতে কাজ করছেন—সেটিও কেউ খোলাসা করছেন না। ফলে এভাবেই সমন্বয়হীনতার ভেতরেই চলছে তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র অঙ্গন।