বাল্য বিয়ের কারণে বাড়ে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার

এ বছরই বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) ২০১৩ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (খসড়া) ২০১৩ ঃ বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এই বৈঠকের আয়োজন করে। প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বাল্যবিয়ের কারণে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু বাড়ে। কিন্তু সামাজিক পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেক সময় বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারি না। তবে আমরা মন্ত্রণালয় থেকে কিছু কার্যক্রম পরিকল্পনা করছি, যা বাল্যবিবাহ বন্ধে সহযোগিতা করবে। তবে আশা রাখছি, এ বছরের মধ্যেই প্রত্যাশিত আইনটি দিতে পারবো। অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর চেয়ারপারসন ওয়াহিদা বানু বলেন, চরাঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, নেই কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী। যার কারণে সেখানে যেমন বাড়ছে জনসংখ্যা তেমনি সে সব শিশুর শিক্ষার কোন সুযোগ না থাকার কারণে বিয়ের বয়স হতে না হতেই হয়ে যাচ্ছে বাল্য বিয়ে। তিনি উদাহরণ দিয়ে কুড়িগ্রামের ‘অষ্টমীর চর’ ও বরিশালের ‘রসুলপুরের’ কথা বলেন। ব্র্যাকের ‘জাষ্টিস এন্ড মাইগ্রেশন’র ডিরেক্টর জেনারেল শীপা হাফিজা বলেন, মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা অনেক কম, এ থেকে বাঁচার আশায় অভিভাবকরা বাল্যবিবাহ দিচ্ছে। আমাদের দেশে গ্রামে প্রাথমিক স্কুলগুলো কাছাকাছি থাকলেও মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলো বেশ দূরে। বৈঠকে কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের নির্বাহী পরিচালক নাসিমা আক্তার জলি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের বাল্যবিবাহ রোধ করা প্রয়োজন। কারণ বাল্যবিবাহের কারণেই শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার বাড়ে। ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এবং বার্তমান বাস্তবতা’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে মেয়ের বিয়ে দেয়াকেই নিরাপদ রাখার শ্রেষ্ঠ উপায় বলে মনে করা হয়। আবার আমাদের দেশে মেয়ের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে স্ত্রী এবং মায়ের ভুমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। তাই দেখা যায়, ১৮ বছরের আগে যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের ৮৬ ভাগই নিরক্ষর, ৭৭ভাগ প্রাথমিক ভাবে শিক্ষিত এবং মাত্র ২৬ ভাগ মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছে। সিসিডিবি’র নির্বাহী পরিচালক জয়ন্ত অধিকারীর পরিচালনায় বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের ডিরেক্টর অতিরিক্ত সচিব একেএম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন, কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, উইমেন ইন্টারপ্রেনার এন্ড সোস্যাল এক্টিভিস্ট তাজিমা হোসাইন মজুমদার, শরীয়তপুর ইম্পাওয়ারমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান গওহর নাঈম ওয়াহার প্রমুখ।