পরিবেশ দূষণ :পাঁচ বছরে ১২৬ মামলার নিষ্পত্তি
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৪, ২২:১৮
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানিয়েছেন, পরিবেশ দূষণের দায়ে গত পাঁচ বছরে দায়েরকৃত ৩৩২টি মামলার মধ্যে ১২৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ‘ই-ওয়েস্ট বিধিমালা,২০১৪’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিধিমালার চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন আছে। এছাড়া ২০২১ সাল নাগাদ দেশের ১৫ শতাংশ এলাকা বনায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। গতকাল রবিবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ফরিদপুর-২ আসনের আব্দুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৫ (সংশোধিত ২০১০)’ অনুযায়ী পরিবেশ আদালত ও স্পেশাল কোর্টে পরিবেশ দূষণকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান রয়েছে। আগে দেশে ৩টি পরিবেশ আদালত (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট) ছিল। সংশোধিত পরিবেশ আইন ২০১০ এর পর সকল জেলায় পরিবেশ আদালত ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। উক্ত আইনের সংশোধনের ধারাবাহিকতায় দেশের সকল জেলায় স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের গেজেট জারি করা হয়েছে। সকল জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপনের গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে বিদ্যমান ৩টি পরিবেশ আদালতে গত ৫ বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৯ সালে ৭১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যার ২৬টি নিষ্পত্তি হয়। ২০১০ সালে মামলা হয় ৮১টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯টি। ২০১১ সালে হওয়া ৮৮টি মামলার মধ্যে ১৩টি নিষ্পত্তি হয়। ২০১২ সালে ৪৮টি মামলা হয়, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৫টি। এছাড়া ২০১৩ সালে ৩৮টি মামলা হয়, এরমধ্যে একটিও নিষ্পত্তি করা হয়নি। ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত ৬টি মামলার সবগুলো এখনও অনিষ্পন্ন রয়েছে। মন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল স্বল্পতা, আদালত থেকে মামলা সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রাপ্তি বিলম্ব এবং সাক্ষীর অনিশ্চয়তার কারণে মামলা নিষ্পত্তির হার কম।
দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী সংসদকে জানান, দিনাজপুর-৬ আসনের আওতায় মোট ৩৪টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ১১টি আধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব, বাকি ২৩টি ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনীবিশিষ্ট সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকাসহ সারাদেশের সকল ইটভাটা সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমানোর লক্ষ্যে প্রচলিত ১২০ ফুট চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটাসমূহকে চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতির ইটভাটার (জিগজ্যাগ, হাইব্রিড হফম্যান ও ভার্টিক্যাল শেইফ্ট) রূপান্তরের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে দেশে ২ হাজার ২৪১টি ইটভাটা পরিবেশবান্ধব আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের সকল ইটভাটা আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হলে বায়ুদূষণ কমবে।
নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, আগামী ২০২১ সাল নাগাদ দেশের ১৫ শতাংশ এলাকা বনায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি সকল মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী একটা দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশের বৃক্ষাচ্ছাদনের পরিমাণ প্রায় ১৩ শতাংশ। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় ১২ শতাংশ পাহাড়ি, সমতল ও সুন্দরবন মিলে ১৫ শতাংশ বনভূমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেগম ফজিলাতুন নেসার এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ই-বর্জ্য একটি অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই ই-ওয়েস্ট বিধিমালা ২০১৪ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ বিধিমালার চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।