রাষ্ট্র মানবিক না হলে শিশুদের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৪, ২২:১৯
অনুমান ১১/১২ বছরের শিশু কারিমা। বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে। নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে নওগাঁর আদালতের নির্দেশে রাজশাহী সেফ হোমে অবস্থান করছে। ঠিকানাহীন মেয়েটি বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছে, ‘স্যার আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে যান। আমার এখানে থাকতে আর ভালো লাগে না। না হলে আমাকে এতিমখানায় পাঠিয়ে দেন। তাও আমি এখানে থাকতে চাই না।’ তার মত আশ্রিত শিশুদের অনেকেই ড. মিজানুর রহমানকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় ড. মিজানুর রহমান তাদের সান্ত্বনা দেন।
গতকাল রবিবার রাজশাহীর বায়াস্থ শিশু-কিশোরীদের সরকারি নিরাপদ হেফাজত কেন্দ্র (সেফহোম) পরিদর্শনের সময় সেখানে আশ্রিত শিশুদের দুর্দশা সরেজমিনে দেখে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, শিশুদের মনের ভাষা বোঝার জন্য রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। রাষ্ট্র যদি মানবিক না হয়, তাহলে শিশুদের সমস্যা সমাধান করাও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শিশুদের ভাষা বোঝার জন্য রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি নেই। অথচ এদের দায়িত্বভার রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র তা করতে পারেনি। এই শিশুদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে এদের আটকে রাখা স্বাধীনতা হরণের শামিল। যা মেনে নেয়া যায় না। ফলে এটি (রাজশাহী সেফ হোম) মোটেও শিশুবান্ধব প্রতিষ্ঠান নয়। তারা প্রতিটি শিশুর কেস স্টাডি করবেন। এরপর তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যা যা করার দরকার তাই করবেন।
পরে সেফ হোমের তত্ত্বাবধায়ক সিদ্দিকা সোহেলী রোশনি বলেন, রাজশাহী সেফ হোমে ৫০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও রয়েছে ৯১ জন শিশু এবং দুইজন বৃদ্ধা। এদের জন্য ১৩ জন সেবিকা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬ জন। এছাড়াও রয়েছে আইনগত অনেক সমস্যা। ফলে এখানে অনেক শিশুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই রাখতে হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে তিনি চিঠি লিখেছেন। কিন্তু কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
জানা গেছে, এখানকার ৩৫ জনই মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না। সেখানকার কর্তৃপক্ষ এই মানসিক প্রতিবন্ধীদের গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বলেও জানান সিদ্দিকা সোহেলী। রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের খাবারের তালিকায় ডিমের পাশাপাশি সবজি রয়েছে। কিন্তু খাবার রুমে গিয়ে দেখা গেলো কোনো সবজি নেই। তবে সবজি না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।