এশিয়ার জন্য হতাশার বিশ্বকাপ

গত ২৪ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এর আওতাভুক্ত দলগুলো এখনো নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম রাউন্ডের দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার পরেও এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইরান এখনো জয়ের দেখা পায়নি। গত রবিবার পোর্তো আলেগ্রেতে আলজেরিয়ার কাছে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এই লজ্জাকে আরো বড় করেছে। এর আগে গ্রুপ-এইচ এর প্রথম ম্যাচে তারা রাশিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করায় এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের ওঠার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। এশিয়ান অপর পরাশক্তি জাপানও হতাশ করেছে। গ্রুপ-সি’র প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হবার পরে ১০জনের গ্রীসের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করেছে ব্লু সামুরাইরা। ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া কোস্টারিকার সাথে ৩-২ গোলে বিধ্বস্ত হবার পরে গতবারের রানার আপ নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল খেলে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে সকারুজদের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে এশিয়ান দলগুলো মধ্যে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে টপ ফেবারিট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শনিবার দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে পুরো ৯০ মিনিট তাদের আটকে রেখেছিল। কিন্তু ইনজুরি টাইমে লিয়নেল মেসি যাদুতে শেষ রক্ষা হয়নি। যদিও ১-০ গোলের এই পরাজয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ইরানীরা। এর আগে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ইরান গোলশূন্য ড্র করেছিল। সামপ্রতিক সময়ে বিশ্বকাপে নিজেদের যথাযথ প্রমাণ করে এশিয়ান প্রতিনিধিরা ইউরোপ-লাতিন আমেরিকার বাইরে আলাদা ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের উন্নতি দেখালেও এবারের এই ফলাফল আবারো হতাশ করেছে। ১৯৯০ সালে ইতালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ কোরিয়া কোন জয় পায়নি। কিন্তু ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে সৌদী আরব নকআউট পর্বে গিয়েছিল। আর চার বছর পরে ফ্রান্সের মাটিতে ইরান গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের ইতিহাস তো সবারই জানা। জাপান শেষ ষোলতে পৌঁছালেও দক্ষিণ কোরিয়া পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। চারবছর পরে জার্মানীতে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মেলে ধরে। সকারুজরা নকআউট পর্বে উঠলেও সেই আসরের চ্যাম্পিয়ন ইতালির কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জাপান শেষ ষোলতে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টিতে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়। অভিজ্ঞ জাপানীজ কোচ আলবার্তো জাকেরোনি এখনো নিজের ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে এবারের আসরে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। পরের রাউন্ডে উঠতে হলে একটি জয় অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেজন্য সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসতে হবে ফরোয়ার্ডদের। মঙ্গলবার কুইয়াবায় কলোম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে জাকেরোনি বলেছেন, ‘এবারের আসরে আমরা যা খেলছি তার থেকে অনেক ভাল খেলেছিলাম গত আসরে, এটা আমরা সবাই উপলব্ধি করতে পারছি।’ ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে দেশটির ফুটবল। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুধু পরাজয় দিয়ে এই হতাশার পরিমাণটা বোঝানো যাবে না। শেষ চারটি ম্যাচে তাদের হজম করতে হয়েছে ১১ টি গোল! বাসস/ওয়েবসাইট