আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

চরম দরিদ্রতাকে পরাজিত করে সাফল্যের মালা পরেছে ওরা। শত প্রতিকূলতাকে জয় করে হেসেছে বিজয়ের হাসি। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। অভাব হার মানাতে পারেনি ভ্যান চালক ইমরাউলকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ভ্যান-চালক ইমরাউল কায়েস ইমরান। চিরিরবন্দর উপজেলার জোত সাতনালা গ্রামের ভ্যানচালক সমসের আলীর দ্বিতীয় পুত্র সে। বাবা দু’বছর থেকে কিডনি রোগে ভুগছেন। ৭ সদস্যের ভূমিহীন পরিবারের উপার্জনশীল ব্যক্তিটি অক্ষম হওয়ায় সংসারের এমন করুণ অবস্থায় বাবার ভ্যান হাতে নেয় ইমরাউল। কিন্তু রাত জেগে পড়ার অভ্যাস ঠিকই রপ্ত করে সে। তার বড় ভাই আরমানও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে সফল হয়েছে আসমা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপ-জেলার গাজীরন-নেছা বালিকা বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে আসমা খাতুন। উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আঃ আজিজ ও নাজেরা বেগমের কন্যা আসমা খাতুন। শ্রমিক হিসাবে বাবা যা উপার্জন করে তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। মা হাঁস-মুরগি পালন করে তাদের লেখাপড়ার খরচ যোগায়। পরিবারে অভাব থাকা সত্ত্বেও মনের শক্তি তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। তার ইচ্ছা একজন আদর্শবান শিক্ষক হওয়া। ডাক্তার হতে চায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়া সজিব পাল দারিদ্র্যের কষা-ঘাতে জর্জরিত অসামান্য মেধার অধিকারী সজিব পাল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে। বাবা ননি গোপাল পাল সজিব পালের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মা সুমিতা রানী সংসারের হাল ধরেন। কিন্তু বর্তমানে সজিব পালের পরিবারের পক্ষে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ চালানোর মত সামর্থ্য নেই। তাই অর্থাভাবে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে। মেধাবী ছাত্রী বিথির ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত অর্থাভাবে জিপিএ- ৫ পাওয়া নাটোরের লালপুরের মেধাবী ছাত্রী বিথির ভবিষ্যত্ এখন অনিশ্চিত। মা কাঁথা সেলাই ও দাদী মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। বিথি পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে কাঁথা সেলাইয়ের কাজে মাকে সহযোগিতা করে। ৪/৫ বছর আগে দিনমজুর বাবা মারা যাওয়ার পর অতিকষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে বিথি। বিথির মা ফাতেমা খাতুন জানান, মেয়েকে ভাল কোন কলেজ তো দূরের কথা এলাকার কলেজে ভর্তি করার টাকাই তার নেই। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলো তাঁত শ্রমিক কলিম উদ্দিন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার কলিম উদ্দিন বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার পাড়কোলা গ্রামের ভূমিহীন পিতা জাকির হোসেন বাক প্রতিবন্ধীসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কখনও দিনমজুর কখনও রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। ফলে শ্রমজীবী এই কিশোর সংসারের টাকার জোগান দিতে এবং নিজের ও ছোট বোনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গ্রামের এক মহাজনের বাড়িতে তাঁতের কাজে যেতে হতো। যে দিন এসএসসি’র ফল প্রকাশ হয় সেদিনও কলিম উদ্দিনকে তাঁত বুনতে হয়েছে। তবে তার আশংকা অর্থাভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তাই সে দেশের বিত্তশালী ও শিক্ষানুরাগিদের সহযোগিতা কামনা করেছে। দারিদ্র্য বাধা হতে পারেনি পিতৃহীন স্বর্ণালির জীবনে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বাধা হতে পারেনি পিতৃহীন স্বর্ণালি আক্তার মালার জীবনে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বালিকা বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছেছে স্বর্ণালি। উপজেলার উথলী গ্রামের পিতৃহীন স্বর্ণালি আক্তার মালা ভবিষ্যতে চিকিত্সক হতে আগ্রহী। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা তার স্বপ্ন পূরণে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দিয়েছে।