মানবতাবিরোধী অপরাধে সারাদেশে ৫৭৭ মামলা

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সারাদেশে বর্তমানে ৫৭৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাম্পটন ক্রিক ফুড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১১ রকমের উদ্ভিদ থেকে কৃত্রিম ডিম তৈরি করছে। মাইক্রোসফেটর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও পে-পল এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েল এই কৃত্রিম ডিম তৈরির অর্থের যোগান দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। সোমবার সংসদে টেবিলে উত্থাপিত পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে দুই মন্ত্রী এসব তথ্য দেন। ফেনীর নিজামউদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে সারাদেশে দায়েরকৃত ৫৭৭টি মামলার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৪, রাজশাহী বিভাগে ৬৬, খুলনা বিভাগে ১৮৪, সিলেট বিভাগে ৫০টি, বরিশাল বিভাগে ৫১ ও রংপুর বিভাগে রয়েছে ৩০টি। এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে গঠিত দুটি ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ১০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে একজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে ১০টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যে ৪টি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে (সিএভি)। উল্লেখ্য, এরমধ্যে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণার কথা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক সংসদকে জানান, দেশের পারিবারিক আদালতে ৫৭ হাজার ১৮৫টি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা জেলায়-৬ হাজার ৪৫টি, সবচেয়ে কম পঞ্চগড়ে-৭৪টি। চট্টগ্রাম-১১ আসনের সদস্য এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, অর্থাত্ গত পাঁচ বছরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৪ হাজার ৪৬৮টি ফৌজদারি ও ১৪ হাজার ৪৬৭টি দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭২টি ফৌজদারি ও ২৪ হাজার ৭২৫টি দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, বর্তমানে ১০৭টি সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য। এরমধ্যে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য ৫ শতাংশ কোটায় ২৩টি পদ সংরক্ষিত। কৃত্রিম ডিম :চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক জানান, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুপারশপগুলোতে কৃত্রিম ডিম বিক্রি শুরু হয়েছে। এ ডিম দিয়ে কেক, কুকিজ, মেয়নেজ থেকে শুরু করে অনেক খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা যায়। যার স্বাদ এবং গন্ধ সাধারণ মুরগির ডিমের মতোই। উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যমতে এ কৃত্রিম ডিম মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু। তাছাড়া এই কৃত্রিম ডিমের উত্পাদন খরচ সাধারণ ডিমের চাইতে ১৯ শতাংশ কম। এ সম্পর্কে মন্ত্রী আরও জানান, কিছু দেশে মানবদেহের জন্য নকল কৃত্রিম ডিম তৈরি হচ্ছে। তবে কৃত্রিম ডিম আমদানির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আবেদন করেনি, অধিদপ্তরও কাউকে অনুমতি দেয়নি। তাছাড়া দেশের বাজারে কৃত্রিম ডিম কেনা-বেচার কোনো তথ্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জানা নেই, তারপরেও এ ব্যাপারে অধিদপ্তর সর্তক অবস্থানে রয়েছে।