দিনাজপুরের ঝুঁকিপূর্ণ ঢেপা নদীর ব্রিজটি মরণ ফাঁদ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২৭ বছর ধরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মানুষ ঢেপা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে শত শত যানবাহন নিয়ে পারাপার হচ্ছে। যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর শাখা ঢেপা নদী বীরগঞ্জ-দেবীগঞ্জ রাস্তায় ইংরেজ শাসনামলে খেয়াঘাটের মাধ্যমে গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি ও মানুষ পারাপার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য করত। জনগণের ভোগান্তির কারণে ১৯৫০ সালে তত্কালীন সরকারের সময় ঢেপা নদীতে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৩০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক-সেনারা ঐ ব্রিজটি উড়িয়ে দেয়ার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পঞ্চগড় জেলার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে দেশে হাজার হাজার ব্রিজ ধ্বংস হয়েছে কিন্তু ঢেপা নদীর ব্রিজটি একদিকে হেলে পড়লেও ধ্বংস হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর থেকে ঢেপা ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবি তোলা হয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান, অটোরিক্সা, ভটভটি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, এ্যাম্বুলেন্স, মিনিবাস, কোচসহ ভারী যানবাহন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। ব্রিজটির উপরের অংশে রয়েছে অসংখ্য ভাঙ্গন, যা প্রতিবছর সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মাঝে-মধ্যে লোকজনকে ব্রিজটি মাপামাপি করতে দেখা গেলেও আজ পর্যন্ত পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল খালেক সরকার জানান, বহুবার ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলেও শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কোনো কিছুই মিলেনি। ঢেপা নদীতে ৩০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটিতে যে কোনো সময় ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের আশংকা রয়েছে।