ঠাকুরগাঁওয়ে আম ব্যবসায়ে ধস

ফরমালিন আতঙ্কে ঠাকুরগাঁওয়ে আম ব্যবসায় ধস নেমেছে। বেচাকেনা হচ্ছে অনেক কম। ব্যবসায়ীরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো আমে ফরমালিন মেশানো হয় না। অথচ আতঙ্কের কারণে এ জেলাতেও বেচাকেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ জন্য এবার তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তাদের পথে বসতে হবে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ বিশ্বাস জানান, ফরমালিনের ব্যাপারে প্রশাসন সবসময় সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে বাজারে অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো ফলে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। কেউ যাতে ফরমালিন মিশ্রিত ফল বিক্রি করতে না পারে সে ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত আছে। অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে মৌসুমি ফল কেনার সময় ক্রেতাদের একটু সতর্ক হয়ে কেনার জন্য আহবান জানান তিনি। উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় ফলের মোকাম ঠাকুরগাঁওয়ের রোড বাজার। শুধু রোড এলাকাতেই দেড় শতাধিক পাইকারি বিক্রেতা আছে। তাদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আম যায়। কিন্তু রাজধানীতে ফরমালিন মেশানো সন্দেহে কয়েক ট্রাক আমসহ অন্যান্য ফল নষ্ট করার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিদিন ১০০ টন থেকে ১৫০ টন আম বিক্রি হতো। এখন তা ৫০/৬০ টনে নেমে এসেছে। আগে এ সময় আম কেনার জন্য অন্য জেলা থেকে ব্যাপারীরা এসে ভিড় করতেন। আম নেয়ার জন্য রাস্তায় ট্রাকের লাইন পড়ে যেত। সেখানে এবার ভিন্ন চিত্র। এখন বাইরের জেলার ক্রেতারা আসছেন না। আম ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান জানান, বাইরের জেলার ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আম কিনতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসন যদি ফরমালিন সন্দেহে ট্রাক রাস্তায় আটক করে আম ধ্বংস করে দেয়, তাহলে তাদের অনেক ক্ষতি হবে। খুচরা ক্রেতারাও রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। তারা বলছেন, ফলে ফরমালিন মেশানো আছে কি না তা যেহেতু তারা নির্ণয় করতে পারেন না, তাই ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল কিনতে চান না। ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানান, কোনভাবেই ক্রেতাদের বোঝানো যাচ্ছে না যে, তাদের ফলে ফরমালিন নেই। এ জন্য ফল নিয়ে তারা মহা ঝামেলায় পড়েছেন। তাদের দাবি প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নেয়া উচিত, যাতে তারা এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান।