ক্যাসিয়াসদের যুগ শেষ

বর্তমান বিশ্ব চাম্পিয়নদের এমন বিদায়ের কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। আর এই চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপের মুকুট এনে দেয়া দুই বীর সৈনিকের খেলা চলাকালে এমনভাবে বিদায়টাও প্রত্যাশিত ছিল না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় দেশবাসীকে জানিয়ে এসেছিলেন আবার ভালো কোনো খবর দেবেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবল হবে স্পেনের জন্য আরেকটা স্মরণীয় আসর। কিন্তু কে জানতো ‘চলতি গাড়ি’ থেকে নামিয়ে দেয়া হবে মিডফিল্ডার জাভি ফার্নান্দেজ আর গোলকিপার অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসকে। টুর্নামেন্টের মধ্যেই ছাঁটাই শুরু হয়ে যাবে। স্পেন ফুটবলের মুকুট যাদের হাত ধরে এসেছিল। ইউরো ফুটবলে জয়ের মালা যারা স্প্যানিশদের গলায় পরিয়ে দিয়ে ছিলেন, তারাই এখন স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় শত্রু। অনেক স্প্যানিশ টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত ব্রাজিলের বিভিন্ন হোটেল ও এয়ারলাইন্সে বুকিং দিয়ে রেখে ছিলেন। উদ্দেশ্য, দল যেখানে যাবে তারাও থাকবেন পেছনে পেছনে। সেই সব বুকিং বাতিল করেছেন নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলা দেখে। সমর্থকদের এহেন আচরণ খেলোয়াড়দের কাছে অপমানের মতোই। কারণ এই ফুটবলাররাও তো স্পেনকে কম দেননি। তাহলে এভাবে বিদায় কেন? চিলির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে হারার পর দলের কোচ দেলবস্ক আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি স্পেনের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ক্যাসিয়াস ও জাভিকে নামাবেন না। এর কারণ হিসাবে মাসল ইনজুরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ভেতরে রয়েছে অন্য খবর। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমই খোঁজ নিয়ে জেনেছে ক্যাসিয়াস এবং জাভির বিশ্বকাপ শেষ। এই ঘোষণা দেয়ার আগেই ক্যাসিয়াস এবং জাভিকে তাদের ব্যাগ গোছাতে বলা হয়েছিল। আর ক্যাসিয়াস ও জাভি এমন একটা কথা যে কোনো সময় শোনার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতও ছিলেন। ভেবেছিলেন আরো দুই একজনও থাকবেন বাদের তালিকায়। শেষ পর্যন্ত জাভি ফার্নান্দেজ এবং ইকার ক্যাসিয়াসকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন কোচ। তাদের ছাড়াই বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের অভিযান শেষ হলো। কোচ দেলবস্ক খুবই বিরক্ত তাদের ওপর। তারা এমন ফুটবল খেলেছে যা দেখে নাকি দেলবস্ক লজ্জা পেয়েছেন। একটি সংবাদ সম্মেলনে দেলবস্ক কোনো রাখঢাক না করে বলেই দিয়েছিলেন দল নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। দলের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাববেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। বি গ্রুপে স্পেন প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হেরেছে। এই স্কোর দেখে কারো যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। রাত জেগে ঘুম চোখে যারা খেলা দেখছিলেন তাদের ঘুম মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে গেল। অনেকেই বোবা হয়ে গেলেন। এটা কি স্পেন, নাকি না অন্য কোনো দলের খেলা! নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ক্যাসিয়াসের মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার ছবিটা ফুটবল দর্শকদের হাসিয়েছে। লজ্জা দিয়েছে। অনেকেরই মনে থাকার কথা মোহামেডানের গোলকিপার ছাইদ হাসান কানন তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে যেভাবে গোল হজম করে মোহামেডানকে ডুবিয়েছেন। ক্যাসিয়াসের অবস্থাটাও হয়েছে সে রকমই। গত কয়েকটি বছর গোলপোস্টের নিচে যার ছিল দোর্দণ্ড প্রতাপ। সেই তিনি ব্রাজিলে এসে দুই ম্যাচে ৭ গোল হজম করেছেন। ক্ষিপ্ত স্পেন কোচ দলে ছাঁটাই প্রসঙ্গে বলেছেন, এখন অনেক কিছুই করা যাবে না। কারণ আমরা তো বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েই ফেলেছি। যারা দলে থেকেও বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি তাদের জায়গা করে দেয়াই ভালো। ৭০ এবং ৭৪ বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেন চূড়ান্ত পর্বেই উঠতে পারেনি। এরপর থেকে স্পেন এমনভাবে নিজেদের তৈরি করলো যে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো। কিন্তু এক বিশ্বকাপ যেতে না যেতেই স্পেনের এ কী হাল। ব্রাজিল বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন সবচেয়ে লজ্জাজনক পারফরম্যান্স করেছে। অথচ স্পেনের ফুটবল ছিল বরাবরই জৌলুসপূর্ণ। স্পেনের ফুটবলাররাই দর্শকদের কাছে বার্সেলোনার ফুটবলটাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। সেই জাভিদের এই করুণ হাল। তবে স্পেনের দুরবস্থা দেখে অন্যান্য দলের একটা লাভ হয়েছিল। সজাগ হয়েছিল তারা। বিশ্বকাপ ফুটবল আজকের খেলা গ্রুপ ‘ডি’ কোস্টারিকা-ইংল্যান্ড, রাত ১০:০০ ইতালি-উরুগুয়ে, রাত ১০:০০ গ্রুপ ‘সি’ গ্রীস-আইভরি কোস্ট, রাত ১০:০০ জাপান-কলম্বিয়া, রাত ২:০০