ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ রায় ২ জুলাই

ভারত-বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণে আগামী ২ জুলাই রায় দেবে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতবছরের ডিসেম্বরে হেগের স্থায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি আদালত বা পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশনে (পিসিএ) দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উত্থাপন শেষে তা রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধের প্রধান বিষয় হলো দুই দেশের জলসীমা শুরুর স্থান নির্ধারণ। এছাড়া ভূমিরেখার মূলবিন্দু থেকে সমুদ্রে রেখা টানার পদ্ধতি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। সমুদ্রসীমা বিরোধের ক্ষেত্রে ভারত সমদূরত্বের ভিত্তিতে রেখা টানার পক্ষে মত দিলেও বাংলাদেশ ন্যায্যতার ভিত্তিতে রেখা টানার পক্ষে। বাংলাদেশের যুক্তি অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও ভূমির মূলবিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রি সোজা রেখা যাবে। তবে ভারত বলছে- সমুদ্রতট বিবেচনায় এ রেখা হবে ১৬২ ডিগ্রি। প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। দীর্ঘসময়ে কয়েকটি বৈঠক হলেও সমাধান না পেয়ে ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায় বাংলাদেশ। সেখানেও সমঝোতা না হওয়ায় ২০১১ সালের মে মাসে হেগের আদালতের শরণাপন্ন হয় ঢাকা। অবশ্য ২০১২ সালের জুলাইয়ে আদালতে পাল্টা দাবি উত্থাপন করে ভারত। এর আগে ২০১২ সালে জার্মানির হামবুর্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের যে রায় দেয় তাতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত জলসীমা পায় বাংলাদেশ।