এই আলজেরিয়া, সেই আলজেরিয়া
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ১৯:৩০
২৫ জুন, ১৯৮২। চলছে স্পেন বিশ্বকাপ। গিজন শহরের এল মনিনোন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। এখানেই ঘটে গেল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোর একটি।
প্রথম থেকেই পশ্চিম জার্মানির মুহুর্মুহু আক্রমণ। গোল পেতে তাই বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না জার্মানদের। ১০ মিনিটের মাথায় হর্স্ট রুবেখের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় পশ্চিম জার্মানি।
এরপরের ৮০ মিনিট ছিলো ফুটবলের কলঙ্কতম অধ্যায়। দুই দলই জানতো, এই ফলই তাদের দু’দলকে তুলে দিবে দ্বিতীয় রাউন্ডে, বাদ পড়বে আলজেরিয়া। প্রতিবেশী দু’দেশ তাই ম্যাচের বাকি সময়টা বলার মত কোন আক্রমণই করেনি। নিজেদের অর্ধেই বল পাস দিচ্ছিলো, যদি প্রতিপক্ষের কোন খেলোয়াড় আসে, তাহলে ব্যাক পাস দিচ্ছিলো গোলরক্ষককে। কেবল পশ্চিম জার্মানির ড্রেমলার আর অস্ট্রিয়ার শাখনারই যা একটু চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু বাকি ২০ জনের অফুটবলীয় আচরণে ম্যাচটি পরিণত হয় পরিহাসে।
সেই বিশ্বকাপে অভিষিক্ত আলজেরিয়া প্রথম দিনেই পরাক্রমশালী পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেখিয়েছিলো চমক, সেবারই প্রথম কোন আফ্রিকান দল বিশ্বকাপে ইউরোপের কোন দলকে হারায়। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে হারলেও চিলিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আলজেরিয়া প্রথমবারই বাজিমাত্ করে দিয়েছিলো প্রায়। কিন্তু, পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার এক ম্যাচই শেষ করে দিলো আলজেরিয়ার স্বপ্ন।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন আবেদন জানায় ফিফাকে এই প্রহসনের ম্যাচ বাতিল করার। কিন্তু কোন নিয়মভঙ্গ না হওয়ায় ফিফা কোন তদন্তে অস্বীকৃতি জানায় এবং ম্যাচের ফল বহাল রাখে। পশ্চিম জার্মানি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে রানার্স-আপ হয়, অস্ট্রিয়া বাদ পড়ে পরের রাউন্ডেই। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা ও পেরুর মধ্যকার আরেকটি ম্যাচও পাতানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়।
এই দুই ম্যাচের জের ধরেই ১৯৮৪ সালের ইউরো আর ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে গ্রুপের শেষ রাউন্ডের দু’টি ম্যাচ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যেন কোন দল এরকম প্রহসনের ম্যাচ খেলতে না পারে। কিন্তু আলজেরিয়ার জন্য তো অপেক্ষার অবসান ঘটে না। ১৯৮৬ সালে কোন ম্যাচ না জিতেই বিদায় নিল গ্রুপ পর্ব থেকে।
এরপর কেটে গেল ২৮ বছর। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বই পেড়োনো হল না তাদের। চলমান ব্রাজিল বিশ্বকাপে তারা এসেছিল অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। কিন্তু এতোদিনের প্রতীক্ষার অবসানটা বেশ জোড়ালোভাবেই করলো আলজেরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে বেলজিয়ামের সাথে দ্বিতীয় দল হিসেবে চলে গেল দ্বিতীয় রাউন্ডে। দিনটি ছিল আলজেরিয়ার জন্য ঐতিহাসিক একদিন। কোচ ভাহিদ হালিলহোডিচও মানছেন আলজেরিয়ার খেলোয়াড়দের কৃতীত্বের কথা, ‘ফলাফলটা তো সবার চোখের সামনে। খেলোয়াড়দের যা বলেছি সেটাই করে দেখিয়েছে। এটা ছিল পরিপূর্ণ একটা দিন। নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু উজার করে দিয়ে খেলেছি আমরা।’