আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

দরিদ্রতা দমাতে পারেনি ওদের। প্রবল ইচ্ছাশক্তি এনে দিয়েছে সাফল্য । এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে এই মেধাবীরা। সবাই উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত ওরা। এসব মেধাবীদের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। গঙ্গাচড়ার মারুফার ভবিষ্যত্ অন্ধকার দু’বেলা দু’মুঠো ভাতও জোটে না ঠিকমত কপালে । তার উপর ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ । তিন মেয়ে ও এক ছেলের সংসার বিধবা আলেপজনের । সংসারে আয় বলতে তেমন কিছু নেই। স্বামী মোজাম্মেল হক মারা যান ২০০৭ সালে। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন আলেপজন। অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। এ অবস্থায় মেয়ে মারুফা বেগম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তালুক হাবু দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু এ সাফল্য ধরে রাখতে মারুফার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। বিধবা মায়ের কষ্টের বোঝা শুধু বাড়ছে। তাই এখন একটাই প্রশ্ন কি হবে তার লেখাপড়ার। পিতৃহারা সোহানা জিপিএ ৫ পেয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আগোলঝাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে পিতৃহারা সোহানা ইয়াসমিন। সে উপজেলার আটারই গ্রামের মৃতঃ মনিরুদ্দিন খাঁর কন্যা। ৮ম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল মেধাবী সোহানা। ক’বছর আগে বাবা মারা যাবার পর পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় সোহানার। তিন বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারেনি সোহানা। তার প্রবল ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে অভাব। কঠিন বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে সাফল্য ধরে রেখেছে সে। তবে এখন তার সামনে অজানা ভবিষ্যত্। তাকে পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক বন্ধুর পথ। ধার করা বই আর পোশাকে পড়ালেখা করেছে রুবেল অভাবের সংসারে দু’বেলা খাবার জুটেনি মো. রুবেল আহমেদের। ধারকরা বই আর পোশাকেই পড়ালেখা করে এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়েছে সবাইকে। রুবেল নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নওপাড়া (ইদিলপুর) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের একমাত্র ছেলে। তাদের জমিজমা নেই। গ্রামের বাজারে চায়ের দোকানের আয় থেকেই তাদের সংসার চলে। মা সবজান বেগম সংসারের চাহিদা মেটাতে দিনমজুরির কাজ করেন। রুবেল জানায়, বাবা-মায়ের কষ্ট সইতে না পেরে সে নিজেও বাবার চায়ের দোকান ও ক্ষেতে কাজ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পড়ালেখা করেছে। সে ভালো কোন পলিটেকিনক্যাল কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু আর্থিক সংকট তার বড় বাধা। কটিয়াদীর মত্স্যজীবীর ছেলে সনাতনের লেখাপড়া অনিশ্চিত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বোয়ালিয়া তাহেরা নূর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সনাতন চন্দ্র বর্মন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পিতা সুনীল চন্দ্র বর্মন মত্স্যজীবী। মা সবিতা রানী বর্মন সেলাইয়ের কাজ করেন। জায়গা জমি নেই। উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামে জমিদার শিবনাথ সাহার বাড়িতে ৪০ বছর যাবত্ বসবাস করছেন। সংসারে অভাব-অনটন তার সাফল্য অর্জনে বাধা হতে পারে নি। তবে আগামীতে তার পিতার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ যোগানো অসম্ভব। তাই তার লেখাপড়া অনিশ্চিত। সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় কিন্তু অর্থাভাবে ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হতাশ পিতা।