ঢাকা উত্তর সিটির নামে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২০:৪৬
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নামে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে নগরবাসীকে। ভুয়া বিজ্ঞপ্তির কারণে বর্তমানে ৩৩ নং ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ি ও রাস্তায় জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি, কাদেরিয়া হাউজিং সোসাইটি, কাঁটাসুর এলাকার প্রতিটি বাসায় জমে থাকা ময়লা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওয়ার্ডের দৈনন্দিন ময়লা-আবর্জনা নেয়া বন্ধ রয়েছে। একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে, আদালতে মামলার কারণে উত্তর সিটি করপোরেশন ময়লা ফেলানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গত সপ্তাহে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাম ব্যবহার করে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৯ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাসা, বাড়ি ও দোকান-পাটের দৈনন্দিন ময়লা-আবর্জনা নেয়া বন্ধ থাকবে। কারণ জাকের ডাইরি নামক একটি প্রতিষ্ঠান আদালতে মামলা করলে আদালত ডাম্পিং স্পটে কন্টেইনারে ময়লা ফেলানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মামলা নিষ্পত্তি ও নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা হওয়া না পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’
এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন দিপন কুমার সাহা ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের কোন বিজ্ঞপ্তি সিটি করপোরেশন থেকে দেয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনের নামে কে বা কারা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ভুয়া বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছে, ৩৩ নং ওয়ার্ডের বাঁশবাড়িতেই ময়লা ফেলানোর জন্য স্থায়ী ট্রান্সফার স্ট্রেশন রয়েছে; কিন্তু ‘জাকের ডাইরী’ নামক প্রতিষ্ঠানটি মামলা করায় ওইখানে আপাতত ময়লা ফেলানো বন্ধ রয়েছে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করছে উত্তর সিটি। তবে পূর্বের পরিবর্তে বেড়ী বাঁধ সংলগ্ন গ্লাস ফ্যাক্টারির মোড়ে অস্থায়ীভাবে ময়লা ফেলানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ঠ এলাকার নাগরিকদের ময়লা ফেলানো নিয়ে কোন সমস্যা নেই।
কে বা কারা এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে সে বিষয়ে সিটির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, একটি চক্র সিটি করপোরেশনের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। ৩৩ নং ওয়ার্ডের ময়লা ফেলার ট্রান্সফার স্ট্রেশন দখলের জন্য এটা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই বিজ্ঞপ্তির পর থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডের বিশাল এলাকার বাড়িঘর, কাঁচাবাজার, দোকান-পাঠ থেকে ময়লা-আবর্জনা নেয়া বন্ধ আছে। ফলে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে পড়েছে। ওই এলাকার বাড়ি বাড়ি ময়লা জমে প্রকট সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলানো কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে দরিদ্র ময়লা সংগ্রাহকরাও।
স্থানীয় দুই বাসিন্দা ইত্তেফাককে জানান, বিজ্ঞপ্তি ভুয়া হয়ে থাকলেও ময়লা ফেলানো কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা নয়; কিন্তু বিজ্ঞপ্তির পর থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলানো পুরোপুরি বন্ধ আছে। তারা দ্রুত ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রদানকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বাসু দেব সরকার বলেন, গ্লাস ফ্যাক্টারির মোড়ে অস্থায়ীভাবে ময়লা ফেলানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের মতো ময়লা-সংগ্রহকরা ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। কে বা কারা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বিভ্রান্তি করেছে তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তদন্ত অব্যাহত আছে।