অস্তিত্ব সংকটে ঘাঘরা
ও গিরিজা খাল
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২১:১৯
পানি নিষ্কাশন হতে না পারায়
দিনাজপুরে অল্প বৃষ্টিতেই
সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার
সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ১৬৩ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন ঘাঘরা ও গিরিজা খালের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। দখল ও আবর্জনার স্তূপের কারণে ৩৮ মিটার চওড়া খাল হয়ে গেছে ১ থেকে ২ মিটারের মধ্যে। এতে করে বর্ষার সময় পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যায় পড়ছেন পৌরবাসী।
দিনাজপুর নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে ১৬৩ বছর আগে ১৮৫১ সালে ইংরেজ কালেক্টর স্কটের আমলে মহারাজা গিরিজা নাথ দৃষ্টিনন্দন ঘাঘরা ও গিরিজা খাল দুইটি খনন করেন। খাল দুইটির মোট দৈর্ঘ্য ১৫ কি. মি ও সেই সময়ে বিভিন্ন স্থানভেদে প্রস্থ ছিল ১০ মিটার থেকে ৩৮ মিটার পর্যন্ত। ১৮৮৭ সালে সর্বশেষ খাল দুইটি পুনঃখনন করা হয়। এরপর থেকেই বন্ধ থাকে খাল দুইটির সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম।
বর্তমানে খাল দুইটি ভরাট করে চলছে দখলের উত্সব। একই সাথে দৃষ্টিনন্দন এই খাল দুইটিতে ময়লা-আবর্জনা পড়তে পড়তে পুরোটাই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি। খাল দুইটি ভরাটের কারণে বর্ষার সময় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো পৌর এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ে। মধ্য বালুবাড়ী, বালুবাড়ী জোড়াব্রিজসহ গিরিজা, উপ-শহর ও পুলিশ লাইন ঘাঘরা খালের সব ব্রিজ ও এলাকায় চলছে দখল বাণিজ্য। এতে একসময়ের আনন্দঘন ঘাঘরা-গিরিজা এখন দিনাজপুর পৌরবাসীর দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিনাজপুরের সচেতন মহল বলেন, বর্ষাকালে তাদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। সাথে সাথে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ। দখলের কারণে দিন দিন এই খাল ছোট হয়ে আসছে। পৌরসভাকে বিষয়টি অবহিত করার পরও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, খাল দুইটি সংস্কার করতে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন যা দিনাজপুর পৌরসভার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। জনসচেতনতার অভাবের কারণে এই ময়লার স্তূপ হচ্ছে। এটি থেকে সরে না আসলে একদিন সবকিছু দখল ও বিলীন হয়ে যাবে। এতে করে সকলকেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আহমদ শামীম আল রাজী জানান, দিনাজপুরের ঘাঘরা ও গিরিজা খাল দুইটি উদ্ধার ও সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে খাল দুইটি সংস্কারের জন্য।
সম্প্রতি খাল দখলমুক্ত ও সংস্কার করতে জেলা প্রশাসককে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের ফলে এসব কাজ করতে সুবিধা হবে।
দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ঘাঘরা ও গিরিজা খাল দুইটি সংস্কার, সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করা হলে উপকৃত হবে এই অঞ্চলের মানুষ। পাশাপাশি পৌরবাসী মুক্ত হবে জলাবদ্ধতা থেকে।