আতিক হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ২ জনের যাবজ্জীবন
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:০৫
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ও দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্য এক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ২ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- শাকিল শিকদার (৩৬)। তিনি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার শরমহল গ্রামের আবদুস সাত্তার সিকদারের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি ঢাকার দক্ষিণখান থানার আজমপুর এলাকার কাঁচাবাজার মধ্যপাড়া বারেক ভাণ্ডারি রোডে বসবাস করতেন। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামিকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ শাকিল স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। যাবজ্জীবন কারাদাণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: নরসিংদীর রায়পুরা থানার রামনগর হাট গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে আলী সরকার নাহিদ (৩৬) ও পটুয়াখালী জেলার কেওয়াবুনিয়া গ্রামের জিন্নাত হাওলাদারের ছেলে মো. ফোরকান (৪০)। ঘটনার সময় নাহিদ থাকতেন ঢাকার কেরানীগঞ্জে।
আসামিদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্য আসামি মো. খোকনকে (৩৬) অসাধুভাবে ভিকটিমের মোটর সাইকেল চোরাই মাল হিসাবে গ্রহণ করার অভিযোগে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সে বরগুনা জেলার আমতলী থানার কলাগাছিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আমজাদ মৃধার ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার পাগলা দক্ষিণ নয়ামাটির রুহুল আমিনের বাড়িতে থাকতেন। চলতি বছরের ৭ মে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক ২০০৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় অফিসের কাজ শেষ করে কাওরান বাজার অফিস থেকে বড় মগবাজার নয়াটোলা বাসায় ফেরার পথে টঙ্গী ডাইভারশন রোডের মগবাজার রেলক্রসিংয়ের আগে তালতলা গলির ভিতর বাবুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছলে আসামিরা আতিকের মেটর সাইকেলের গতিরোধ করে, আসামিরা আতিকের পেটে পরপর দুইটি গুলি করে। আতিকের ব্যবহূত লাল রংয়ের ‘ডিসকভারি’ মোটর সাইকেল ছিনতাই করে ফাঁকা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।