টিকিটের বদলে মহিলা যাত্রীর মাথা ফাটালেন বিমান কর্মচারী!
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:০৬
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল! কিন্তু টিকিট কাটতে যাওয়া রুবি হক এই ঘুষ দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে টিকিট কাউন্টারে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কাউন্টারের এক ব্যক্তি তার চেয়ার তুলে রুবি হকের দিকে ছুঁড়ে মারেন। এতে রুবি হকের মাথা ফেটে যায়। তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিলের বিমান অফিসে। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশের জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার কবীর হোসেন ও হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রুবি হক জানান, ধানমন্ডির ৯/এ রোডের ২২ নম্বর বাড়িতে তিনি থাকেন। তার বাবা পুলিশের সাবেক ডিআইজি মকবুল হোসেন। তিনি সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে টিকিট বুক করেন। গতকাল সকাল ১১টায় বিমানের মতিঝিল অফিসে টিকিট নিশ্চিত করতে যান। ১৮ নম্বর কাউন্টারে যাওয়ার পর তাকে জানানো হয় যে, সিঙ্গাপুরের কোন টিকিট নেই। তিনি কাউন্টারের জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসারকে অনুরোধ করে বলেন, তার টিকিট জরুরি প্রয়োজন। এরপর তিনি কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকেন। দুপুর দুইটার দিকে আবারও টিকিটের জন্য অনুরোধ করেন। এসময় জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার কবীর হোসেন টিকিটের নিশ্চয়তার জন্য তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে রুবি হক উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি চিত্কার করে এই ঘুষ চাওয়ায় বিষয়টি সেখানে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন। এক পর্যায়ে সেখানে থাকা বিমানের কয়েকজন কর্মচারী তাকে ঘেরাও করেন। কবীরের একজন সহকর্মী হাফিজুর একটি চেয়ার তুলে রুবি হকের দিকে ছুঁড়ে মারেন। চেয়ারের আঘাতে রুবি হক মেঝেতে পড়ে যান।
খবর পেয়ে মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে ছুটে যায়। মতিঝিল থানার এসআই রাইসুল ইসলাম জানান, পুলিশ আহত মহিলাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় কাউন্টারের উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কবীর ও হাফিজকে আটক করে থানায় নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আহত ঐ মহিলা বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।