জয়রথ অব্যাহত রাখতে চায় ফ্রান্স
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:১১
ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে টানা দুই বড় জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিতের পর এখন শেষ খেলাটিতেও একই ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। আগের বিশ্বকাপের দু:স্বপ্ন কাটিয়ে উঠে এবার ব্রাজিলে এসে প্রথম খেলায় ৩-০ এবং পরেরটিতে ৫-২ গোলের জয় পেয়েছে ফরাসিরা। হডুরাস এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দু’টিতে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা গোল পেয়েছে আটটি! দূর্দান্ত নৈপূন্যে থাকা দিদিয়ের দেশমের দল গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ মারাকানায় ইকুয়েডরের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে ইকুয়েডরের জন্য লড়াইটা গুরূত্বপূর্ণ হলেও কোনো চাপে নেই ফ্রান্স। দূর্দান্ত ফর্মে আছেন দলটির খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে নৈপূণ্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে দেশমের শীষ্যদের। ওই খেলায় ফ্রান্সের তারকা খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই গোল পেয়েছেন। দলের এই পারফরম্যান্সকে ‘যথাযথ’ বলে মত দেন কোচ দেশম।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে দূর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলে ফ্রান্সের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানালেন দলের উইঙ্গার ম্যাথিউ ভালবুয়েনা, ‘ফুটবলে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। পাঁচ মাস আগেও দলকে ঘিরে সমর্থকদের খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। আমার মনে হয় এই নৈপূন্য দলের প্রতি সমর্থকদের মনোভাবে পরিবর্তন এনেছে। এখন আমরা ভক্তদের কাছ থেকে অনেক সমর্থন পাচ্ছি। যদিও আমাদের এখনো অনেক পথ বাকি।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ সালের বিশ্বকাপে এবং ইউরো ২০১২ চ্যাম্পিয়নশিপেও ফ্রান্সকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। যদিও আসর দুটিতে মোটেও ভাল করতে পারেনি তারা। এই সময়ে দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের খবরও বেড়িয়ে। ওই অবস্থা থেকে দলটি ঘুরে দাড়িয়েছে বলে জানান ভালবুয়েনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১০ এবং ২০১২ সময় আমাদের জন্য খুবই জটিল ছিল। আমরা ওই অতীত থেকে ফিরে আসছি।’
ইকুয়েডরকে তাই সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হচ্ছে । নক-আউট পর্বে যেতে গ্রুপের অপর দল সুইজারল্যান্ড চেয়ে তুলনামূলক ভাল কিছু করতে হবে তাদের। কেননা সুইজারল্যান্ডেরও পয়েন্ট ইকুয়েডরের মতোই তিন পয়েন্ট। কেবল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয়স্থানে অবস্থান করছে তারা। গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে হডুরাসকে হারিয়ে দিতে পারলে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে ইকুয়েডর হারলে বা ড্র করলে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলতে খেলবে সুইজারল্যান্ড। এতে নক-আউট পর্বের সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশা বরণ করতে হতে পারে ইকুয়েডরকে। বলা যায়, ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইটা দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিনিধিদের জন্য জন্য বাঁচা-মরার।
পরিসংখ্যানে ফ্রান্স থেকে পিছিয়ে ইকুয়েডর। এর আগে দল দু’টি একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ওই লড়াইয়ে ২-০ গোলে হারে ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে কোচ দেশমের দলের অতীত বেশ সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপে ওই অঞ্চলের দলগুলোর সঙ্গে সর্বশেষ ছয় ম্যাচে একটিতেও হারেনি তারা। তাছাড়া দূর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স স্ট্রাইকার বেনজেমাকে আটকানো কঠিন হতে পারে ইকুয়েডরের, যিনি ফ্রান্সের হয়ে গত চার ম্যাচে ছয়টি গোল করেছেন।