চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের পর বনায়ন করা হবে
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৪, ২২:১৬
চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আজ বুধবার লালখান বাজার মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল এলাকায় বসতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। এসব এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক বসতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইসাথে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। উচ্ছেদের পর গাছের চারা রোপণ করা হবে। পুনরায় যাতে স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন, পিডিবি, ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিপূর্বে প্রশাসন ১১টি পাহাড়ের ৬৬৬টি বসতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে এসব স্থাপনা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মতিঝর্ণা, বাটালি হিল, সিআরবি পাহাড়ের পাদদেশ, রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ গালর্স স্কুল পাহাড়, আকবর শাহ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, ফয়’স লেক আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন পাহাড়, পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন পাহাড়। উচ্ছেদের পর সেখানে গাছের চারা রোপণ করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এতোদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসতিগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, সরিয়ে দেয়ার পর তারা পুনরায় বসতিতে ফিরে যায়। ছিন্নমূল এসব মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আশ্রয় কেন্দে রাখার পর খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী দেয়ার পরও রাখা যাচ্ছে না। এতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসনকে সবসময় উত্কণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়।
গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক ইত্তেফাককে বলেন, আজ বুধবার মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। উচ্ছেদের পর সেখানে বনায়ন করা হবে। উচ্ছেদ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসন জরুরি বৈঠক করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, উচ্ছেদের পর তাদের রাখার জন্য ৬টি স্কুলে আশ্রয় কেন্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা নিজ উদ্যোগে বাসা ভাড়া করে চলে যাবে।