উপস্থাপনায় সেরা হতে ৭ পরামর্শ
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৪, ২১:১৬
কর্পোরেট জগতে প্রেজেন্টেশনের ওপর সাফল্য নির্ভর করে। ভালো প্রেজেন্টেশনের জন্য কত কাঠখড়ই না পোড়ান সবাই। কিন্তু মানসম্পন্ন ও সফল প্রেজেন্টেশনের জন্য কিছু কৌশল জানতে হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ থেকে এমন ৭টি কার্যকর কৌশল জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব
১. লেকচার দেবেন না :ছেলে-মেয়ের ভুল-ত্রুটি ধরা পড়লে বাবা-মায়ের লেকচার চলে। কিন্তু প্রেজেন্টেশনে তা হয় না। কর্পোরেটে যেকোনো বিষয়ের মূলটা উপস্থাপন করতে হয়। সেখানে লেকচার শুধু বিরক্তির উদ্রেক করবে।
২. আবেগের সংযোগ ঘটানো :ব্যবসায়িক প্রেজেন্টেশনের উদ্দেশ্য হলো শ্রোতাদের ওই মুহূর্তের আবেগের ইতিবাচক প্রয়োগ ঘটানো। শ্রোতাদের আবেগ ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয়। যেমন—দুশ্চিন্তা (সমস্যার উপস্থাপন করা); দুশ্চিন্তার অবসান (সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেওয়া); বিশ্বাস (আপনি এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা প্রমাণ); প্রণোদিত করা (তারা কাজ দিতে সিদ্ধান্ত নেবে)। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে বিস্ময় (এমন কিছুর উপস্থাপন যা তারা জানতেন না); আগ্রহ (আপনার আইডিয়া নিয়ে উত্সাহী); উদ্দীপনা (আপনার আইডিয়া তাদের কাছে দারুণ লেগেছে) এবং পদক্ষেপ গ্রহণ (আপনার সাথে তারা কাজ করতে রাজি)।
৩. গল্পের উপস্থাপন :সবচেয়ে ভালো প্রেজেন্টেশন হলো কিছু গল্পের উপস্থাপন। এসব গল্পের উপস্থাপন এমন আকারে হবে যেন আপনি অফিসে কীভাবে আসলেন সে কথা জানালেন। প্রেজেন্টেশনের প্রতি শ্রোতারা যতটা সিরিয়াস থাকবেন, এসব গল্প তাদের কাছে তত আগ্রহের উদ্রেক করবে।
৪. সাইন পোস্টের ব্যবহার :ঘোরাঘুরি বা স্থান চেনার জন্য যেমন সাইন পোস্টের ব্যবহার হয়, তেমনি প্রেজেন্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। এখানকার সাইন পোস্ট হলো ফ্যাক্ট, গ্রাফিক অথবা টেবিল ব্যবহার করে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা। এগুলো সহজে শ্রোতার সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে থাকে।
৫. সহজ-সরল করুন :গল্প দিয়ে প্রেজেন্টেশন করার কথা বলা হয়েছে। এসব অতি সহজ-সরল করে দিতে হবে। গল্পটি হবে আসলে প্রেজেন্টেশনের অংশটি সহজ করে দেওয়ার জন্য। কাজেই যতটা সম্ভব সহজভাবে উপস্থাপন করুন।
৬. নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন :শ্রোতাদের মধ্য বিশেষ একজনের সাথে সরাসরি কথাবার্তা বলুন। সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়। তবে প্রেজেন্টেশনের একেকটি অংশে একেকজনের সঙ্গে কথা বললে তা আরও কার্যকর হবে।
৭. টোয়েন্টি-টুয়েন্ট :বিশেষজ্ঞরা প্রেজেন্টেশনকে ২০ মিনিটের স্থায়িত্ব দিতেই পরামর্শ দেন। ২০ মিনিটের এই প্রেজেন্টেশনের জন্য ২০ বার নিজে নিজে চর্চা করুন। আর তাহলেই প্রেজেন্টেশনে মিলবে সাফল্য।