পুঁজিবাজারে বিরূপ প্রভাবের আশংকা
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৪, ২২:১৪
আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগকারীদের ‘ক্যাপিটাল গেইন’ (অর্জিত মূলধন) এর উপর কর আরোপ করায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও ‘সিআরআর’ (নগদ জমার হার) বাড়িয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের লেনদেন তলানিতে নেমে এসেছে। গত তিন বছর ধরেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন গড়ে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার আশেপাশে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন ট্যাক্সের ফলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত হবেন। আর সিআরআর বৃদ্ধির ফলে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে চলতি সপ্তায় ডিএসই’র গড় লেনদেন তিনশ’ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।
জানা গেছে, এবারের বাজেটে ১০ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাপিটাল গেইনের উপর ৩ শতাংশ হারে কর বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ২০ লাখ টাকার বেশি ক্যাপিটাল গেইন হলে ৫ শতাংশ হারে কর বসানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই বাজার পরিস্থিতি ভালো নেই। এ অবস্থায় নতুন এ কর আরোপের ফলে ব্যক্তি বিনিয়োগকরীরা নিরুত্সাহিত হবেন।
ডিএসই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই সময়ে এ ধরনের কর বসানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। কারণ এ ধরনের নতুন কর আরোপের ফলে বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক ধারণা যাচ্ছে। বাজারের বর্তমান খারাপ পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর কাম্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সিআরআর ছয় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা বাড়িয়ে রাখতে হবে। এতে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের প্রবাহ কিছুটা কমবে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিআরআর বৃদ্ধির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমবে। এতে শেয়ারবাজারের লেনদেনেও প্রভাব পড়বে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বেশি বিনিয়োগ করছে না। ফলে এর সরাসরি প্রভাব কম হবে। তবে সিআরআর বৃদ্ধির ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ কমায় শেয়ারবাজারে এর কিছুটা প্রভাব থাকবে।
এসব বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি যেন না বাড়ে সেজন্য সিআরআর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এ মুহূর্তে এটি যথাযথ হয়নি। কারণ এমনিতেই এখন বেসরকারি বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। অর্থনীতির স্বার্থে যে কোনো মূল্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য শুধু ব্যাংকে টাকা থাকলেই হবে না, অবকাঠামোগত পরিবেশ সৃষ্টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
এদিকে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন কমে আসায় ট্র্যাকহোল্ডারদের আয় অনেক কমে গেছে। তারা বলছেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে আয় কমে যাওয়ায় কর্মচারীদের বেতন দিতেই তাদের কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া শেয়ার ব্যবসা থেকেও মুনাফা করা যাচ্ছে না। উপরন্তু সরকারের নতুন করারোপ ও টাকার প্রবাহ কমানোর সিদ্ধান্তে বাজারের লেনদেন আরও কমে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা পরিচালনা করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।