আহ্লান সাহ্লান

মাহে রমজান

শোকর আদায় করছি সর্বমহান আল্লাহ তায়ালার নিকট যিনি আমাদেরকে মুসলমান হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর সব হুকুম আদায় করার তৌফিক দান করেছেন। ইসলামের ৫টি মৌলিক কাজ হল: কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত। এগুলোর মধ্যে রোজা হল মহত্ত্ব অর্জনের ইবাদত। রোজা গরীব দুঃখী সকলের জন্য ফরজ করা হয়েছে। এ জন্য আল্লাহ কোরআন পাকে উল্লেখ করেন: ”হে ঈমানদারগন! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার” (সূরা বাকারা ১৮৩)। রমজান মাস হল সবচেয়ে বরকতপূর্ন ইবাদতের মাস। এ মাসে সকলে দরদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করে থাকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ মাসে সবাই জামাতের সাথে নামাজ অদায় করে থাকে, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে আগ্রহী হয়, অন্তর দিয়ে কোরআন শরীফ তেলওয়াত করে থাকে, না হক ও বাজে কথা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায়, সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে চায়। রিয়ার প্রভাব (লোক দেখানো ইবাদত) এ মাসে অনেকাংশে কম থাকে । রমজান মাসে প্রত্যেক ইবাদতের ফজিলত দশ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক মুসলমান অন্তর দিয়ে চায় কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। রমজান মাসকে আল্লাহ তায়ালা ৩ ভাগে ভাগ করে এর মহত্তকে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন ১ম অংশ আল্লাহর রহমতের , ২য় অংশ মাগফিরাতের এবং ৩য় অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির। এর ফলে প্রত্যেক মুসলমান এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে ৩ ধরনের স্বাদ পেয়ে থাকে। রমজান মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি আলোকিত কারন এ মাসে আল্লাহ মানব জাতির মুক্তির নির্দেশনা স্বরূপ মহা গ্রন্থ আল কোরআন নাযিল করেছেন। এ প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা বলেন—“রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ন করা হয়েছে। এই কোরআন মানব জাতির জন্য পথ নির্দেশিকা ও পথ নির্দেশিকা বিবরনী। কাজেই যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে” (সূরা বাকারা -১৮৫)। রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য উপহারস্বরুপ শবে ক্বদর প্রদান করেছেন। শবে ক্বদরের ইবাদত হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ । আর এ রাত হল বরকতময় রাত। আল্লাহ বলেন : আমি বরকতময় রজনীতে এটা নাজিল করেছি ” (সূরা দুখান ২/৩)। শবে ক্বদরের ফজিলত আল্লাহ তায়ালা সূরা ক্বদরের মধ্যে এ ভাবে উল্লেখ করেছেন: “নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি ক্বদরের রাতে। তুমি কি জানো ক্বদরের রাত কি? ক্বদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক রাত। এ রাতে জিবরাঈল ও ফেরেশতাগণ নানাবিধ বিষয় নিয়ে তাদের প্রতিপালকের অনুমোদন নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে। আর ভোর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তি বর্ষণ করে থাকে” (সূরা আল ক্বদর ১-৫)। রমজান মাস হল সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস। আমরা এই মাসে অধিক সাধ্য-সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে সচেষ্ট হই।