সোমালিয়াকে মুছে দেওয়া মানচিত্রের জন্য ক্ষমা চাইল ইথিওপিয়া

বিবিসি  

‘অগ্রহণযোগ্য’ মানচিত্রটি কীভাবে তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ল তা তাদের জানা নেই বলে দাবি করেছে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আফ্রিকার একটি মানচিত্রে প্রতিবেশী সোমালিয়াকে নিজেদের সীমান্তভুক্ত দেখানোর পর ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মানচিত্রটিতে সোমালিয়াকে পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়েছে কিন্তু স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে দেখানো হয়েছে। সোমালিল্যান্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো দেশ নয়। এ ঘটনার পর সোমবার এক বিবৃতিতে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এই ঘটনা কোনো বিভ্রান্তি এবং ভুলবোঝাবুঝির কারণ হলে আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অতীতে বেশ কয়েকবার সীমান্ত লড়াইয়েও জড়িয়েছে তারা। কিন্তু ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেন। মিত্রতা জোরদার করার লক্ষ্যে গত বছর জুনে সোমালিয়ায় সফরেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই মানচিত্রের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হইচই শুরু হয়। এই মানচিত্রের মাধ্যমে সোমালিয়াকে দখল করে নেওয়ার বিস্তৃত একটি ইথিওপীয় পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সোমালিয়রা। 

এর প্রতিক্রিয়ায় অনেক সোমালিয় ইথিওপিয়াকে সোমালিয়ার সীমান্তভুক্ত দেখিয়ে মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের ক্ষোভ ঝাড়েন। অনেকে ওই মানচিত্রটিতে আরও বেশ কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। যেমন ওই মানচিত্রে রিপাবলিক অব কঙ্গো ও ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে এক দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং দক্ষিণ সুদানকে দেখানোই হয়নি। এ ঘটনার বিষয়ে সোমালিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। মানচিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার পর স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু কীভাবে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় এটি স্থান পেল এবং এটি আঁকাই বা হয়েছে কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

 ‘অগ্রহণযোগ্য’ মানচিত্রটি কীভাবে ‘সবার অলক্ষ্যে তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ল’ সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওয়েবসাইটটি এখন অফলাইনে আছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।