অনাবৃষ্টি ও টানা খরার কারণে কাপ্তাই লেকের পানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি জেলার ৬ উপজেলায় নৌচলাচলে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। লেকে পানি না থাকায় শত শত ইঞ্জিনচালিত বোট অলস বসে আছে। মানুষ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনও বন্ধ হয়ে আছে। এই অবস্থায় লেক তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানি থাকার কথা ৭৬.৭২ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) পানি। কিন্তু লেকে পানি রয়েছে ৭১ ফুট এমএসএল পানি। বৃষ্টি না থাকায় প্রতিনিয়ত লেকের পানি কমছে। পানির অভাবে কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদনও প্রায় ২০০ মেগাওয়াট কমে গেছে।
জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু এবং কাপ্তাই উপজেলার কিছু অংশ লেক পরিবেষ্টিত। এই সব উপজেলায় যাতায়াতে নৌচলাচলই একমাত্র ভরসা। দৈনন্দিন যাবতীয় কাজকর্ম, সরকারি-বেসরকারি অফিসে যাতায়াত, স্কুল-কলেজে ক্লাস করা, সেনাবাহিনীর টহল সব কিছুই নির্ভর করে পানির উপর। লেকে পানি থাকলে নৌচলাচল সহজ হয়। যেখানে ইচ্ছা যাতায়াত করা যায়। কিন্তু বর্তমানে পানির অভাবে সব রকম নৌচলাচল স্থবির হয়ে আছে। আবার কোনো কোনো স্থানে যাতায়াতে অনেক পথ ঘুরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কেউ কেউ যাতায়াত করেন।
লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার জানান, মানুষের দুর্গতি চরম পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। বিষয়টি রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম হারুনুর রশিদসহ বিশিষ্ট জনদের জানানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসীন জানান, সদর উপজেলার অনেক এলাকা রয়েছে লেক পরিবেষ্টিত। এসব এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের যাতায়াতে নৌচলাচলই ভরসা। কিন্তু এখন লেকে পানি না থাকায় সবাই কষ্টকর জীবন যাপন করছেন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম বলেন, পানির অভাবে মানুষের যে কী পরিমাণ কষ্ট ও দুর্ভোগ হচ্ছে তা চোখে না দেখলে বলে বা লিখে বোঝানোর উপায় নেই। রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় ব্রিজ আসামবস্তি ব্রিজের গোড়ায় এক ফোঁটা পানিও নেই।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের বলেন, কাপ্তাই লেকে প্রতি বছর এই সময় পানি স্বল্পতা থাকে। তবে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। তবে যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, টানা ৬/৭ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হলে লেকে পানির স্তর কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। তখন হয়ত মানুষের দুর্ভোগেরও লাঘব হতে পারে। এছাড়া দুর্ভোগ বা দুর্গতি লাঘবের আপাতত আর কোনো উপায় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।