চট্টগ্রামে মাদক যাচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনে

বিভিন্ন সীমান্তবর্তী দেশ থেকে চট্টগ্রামে অবাধে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে আনা গাঁজা ও ফেনসিডিলের একটি চালান আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ভারত থেকে আনা মাদক পরিবহনের জন্য নির্ভরযোগ্য বাহন হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে ট্রেন। ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের চালান ট্রেনে তুলে চট্টগ্রামে এনে তিনগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী অভিজাত আন্তঃনগর ট্রেনও মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার বিভিন্ন নির্ধারিত, অনির্ধারিত স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে গাঁজা ও ফেনসিডিলের বড় বড় চালান ট্রেনে তোলা হয়। এরপর ট্রেনের নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে আসে চট্টগ্রামে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রেনচালক জানান, নির্ধারিত স্টেশন না হলেও মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে মাদক ট্রেনে তোলে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়। জানা গেছে, ভারত থেকে প্রতি কেজি গাঁজা কেনা হয় ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। চট্টগ্রামে তা বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৩৭০০ টাকায়। প্রতি বোতল ফেনসিডিলের দাম ভারতে পড়ে ২০০ টাকা। চট্টগ্রামে তা বিক্রি হয় ৪৫০ টাকায়। অর্থাত্ এক কেজি গাঁজা বিক্রি করে মাদক ব্যবসায়ীদের লাভ কমপক্ষে আড়াই হাজার টাকা। এক বোতল ফেনসিডিলে লাভ ২৫০ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম পুরাতন রেলস্টেশনের সামনের রাস্তা থেকে ১০ কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. সিরাজ (৪০) ও মো. ইদ্রিস (৩৫)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এসব মাদক সামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়েছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে চালানটি কুমিল্লার শশীদল স্টেশন থেকে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে তোলা হয়। চালানটি রাখা হয় ট্রেনের এসি বক্সের মধ্যে। তারা গত আড়াই বছর যাবত্ একই কায়দায় অনেকবার মাদকের চালান চট্টগ্রাম এনেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. বাবুল আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী দেশ থেকে নিয়মিতভাবেই মাদকের চালান আনা হচ্ছে চট্টগ্রামে। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ধরাও পড়ছে। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার চট্টগ্রামে মিয়ানমার থেকে আনা ৩০ হাজার ইয়াবা আটক করে পুলিশ।