সিলেটের নদীপথে বেড়েছে ‘চাঁদাবাজি’

নৌযানে চাঁদাবাজিকালে গ্রেফতার সাত

 সিলেট অফিস ও দক্ষিণ সুরমা সংবাদদাতা

সিলেটের বিভিন্ন নৌপথে বেড়েছে চাঁদাবাজির ঘটনা। চাঁদাবাজ চক্রের হয়রানিতে অতিষ্ঠ সিলেট বিভাগের নদীপথের বালু ও পাথর পরিবহন ব্যবসায়ীরা।

ভুক্তভোগী নৌযানের চালক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, পথে পথে এত টাকা দিয়ে আমাদের পোষায় না। নৌপথে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অনেক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে এবং আরো সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সুনামগঞ্জ সীমান্তের চলতী নদীতে গত এপ্রিল মাসে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিমপুর গ্রামের যুবক মিজানুর রহমান মিজান নামের এক ব্যক্তি খুন হন।

এ দিকে, সুনামগঞ্জের পৌর শহরের লক্ষণশ্রী এলাকার সাহেব বাড়ি নৌকাঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত সোমবার র্যাব-৯ এর লে. কর্নেল ফয়সল আহমদ অভিযান চালিয়ে শহর ও শহরতলীর আবুল কালাম (৩০), দুলু (২২), মাজহারুল ইসলাম (২৪), সাজ্জাদ আলী (১৯), সেলিম (২৬), কাছম আলী (২৯), ফরহাদ (২৪)-সহ ৭ জনকে আটক করে। অন্য দিকে, সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চেঙ্গেরখাল নদীর লালপুর ও ধুমখালের মধ্যবর্তী স্থানে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজিতে জড়িত অভিযুক্ত আনফর ও মনফরের নির্মিত ডেরা গত সোমবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। জালালাবাদ থানা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে ওসি হারুন অর রশীদ ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলমসহ ২০ জনের দুটি দল এ অভিযান চালায়। ওসি হারুন মঙ্গলবার ইত্তেফাককে জানান, তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি জানান, জায়গাটি ছাতক সীমান্তের দুর্গম এলাকায়।

সূত্র মতে, সিলেট সদর উপজেলার চেঙ্গেরখাল নদীর জালালাবাদ ইউনিয়ন অংশে প্রতিদিন পাথর-বালুবাহী নৌকা ও কার্গো থেকে চাদাঁবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ জানান, এখানে কোনো বৈধ ইজারাদার আছে বলে জানা নেই।

জালালাবাদ ইউনিয়নের কালারুকা তথা চেঙ্গেরখাল নদীর ইলঙ্গির বিলের কাড়া নামক স্থানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে— এমন তথ্য জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, প্রতি কার্গো থেকে দৈনিক ২ হাজার টাকা ও বলগেট থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় হয়। কোমপানীগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া পাথরবাহী কার্গো এমভি মোহনা-২ এর চালক বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, গত ২২ মে তার কাছ থেকে জোর করে দেড় হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এমভি মিরাকা-৬ এর চালক জাকারিয়া জানান, তার কাছ থেকেও ২ হাজার টাকা নেয়া হয়। এমভি মিরাকা-৬ এর মালিক মতিন মাতেব্বর বলেন, চাঁদা না দেয়ায় তার কার্গো এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে চাঁদা দিয়ে ছাড়া পান।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনফর আলীর লোকজন চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।