রোজায় অসুস্থতা এবং ওষুধ
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৪, ২০:২৫
স্বাস্থ্যবান মানুষের জন্য রোজার ব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন না থাকলেও অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকে। অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখতে পারবে কি না, পারলে তার ইফতার-সেহরী কেমন হবে, ওষুধ খাওয়ার নিয়ম কি হবে এই ধরনের নানাবিধ প্রশ্ন। যেমন: একটি সাধারণ প্রশ্ন হল, অন্যান্য সময় যে ওষুধগুলো সকালে ও দুপুরে খাওয়া হতো সেগুলো কখন খাবে? একই সাথে রাতের ওষুধগুলো তখন কিভাবে খাওয়া যেতে পারে? এর একটি সহজ উত্তর হল, রোজার সময় রাতের অনুমোদিত খাওয়ার সময়টি দিনের মত ধরে নিলেই হয়। সেক্ষেত্রে সকালের ওষুধ ইফতারের পর পর, দুপুরেরটা মধ্যরাতে এবং রাতেরটা সেহরীর সময় খেয়ে নিতে হবে। তবে রাতের সময়কাল যেহেতু কম, সেহেতু ওষুধ সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধের সময়সীমা পরিবর্তন করে সেই অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া দরকার। এছাড়া কিছু রোগ আছে, যাতে রোজা রাখলে রোগী বেশী অসুস্থ হয়ে পড়বে, সেক্ষেত্রে রোজা রাখার জন্য ইসলামও বাধ্য করেনি। এ ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হওয়ার পর যে কয়টি রোজা রাখতে পারেনি, সে কয়টি কাযা করে নিবে। আর যদি রোগী সুস্থ হওয়ার কোন রকম সম্ভাবনা না থাকে অথবা রোগী এ অবস্থায় মারা যায়, তবে এক রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে দুই খাওয়াতে হবে।
রমজান মাসে রোজা রাখার শর্ত হল মুখে কোন খাবার খাওয়া যাবে না। সে হিসেবে মুখে খাওয়ার ওষুধগুলো দিনের বেলা খাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যে ওষুধ চামড়ার নিচে দিতে হয়, যেমন: ইনসুলিন, তার ব্যপারে শরীয়তের নির্দেশনা কি? তেমনি শ্বাসনালীতে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যেমন: ইনহেলার, চামড়ার ওপরে যে মলম ব্যবহার করা হয় ইত্যাদির ব্যাপারে ইসলামের বিধি-বিধান কি? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে ইসলামের ফকিহ্রা গবেষণা করেছেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের সাথে আলোচনা করেছেন এবং রমজানে কতগুলো ওষুধের ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম নির্ধারণ করেছেন। নবম ফিকহ-মেডিকেল সেমিনার, ২০০৯, কাসাব্লাংকা, মরোক্কো-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিচের ওষুধ বা ওষুধ গ্রহণের পদ্ধতিগুলো রোজা ভঙ্গের কারণ হয় না-
চোখের ও কানের ড্রপ।
যে বস্তুগুলো ত্বক দিয়ে শরীরের শোষণ হয় যেমন: ক্রিম, ওয়েনমেন্ট, ওষুধযুক্ত প্লাস্টার।
যোনীপথে ব্যবহূত পেসারী।
রক্তনালীতে প্রদানকৃত খাদ্য উপাদান (যেগুলো শরীরে পুস্টি স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়) ব্যতিত যে ইনজেকশনগুলো ত্বকে, মাংসপেশীতে এবং রক্তনালীতে দেয়া হয় সেগুলো।
অক্সিজেন এবং অজ্ঞান করার প্রয়োজনে ব্যবহূত গ্যাস।
এনজাইনার ব্যথা কমানোর জন্য জিহবার নীচের ব্যবহূত নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা সেপ্র. মাউথওয়াশ, মুখের সেপ্র যদি না গলার ভিতর চলে যায়।
কমিটির অধিকাংশের মতানুসারে নিচের ওষুধ বা বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত:
নাকের ড্রপ, সেপ্র, ইনহেলার।
পায়খানার রাস্তায় ব্যবহূত ইনজেকশন।
পুরোপুরি অজ্ঞান করে করা সার্জারী (যদি রুগী রোজা রাখতে চান)।