টেক্সটাইল মিলের শত কোটি টাকার জমি পৌনে ৩ কোটি টাকায় বিক্রি
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৪, ২১:২৯
ফেনীতে সরকারি মালিকানাধীন দোস্ত টেক্সটাইল মিলের শত কোটি টাকার জমি মাত্র পৌনে ৩ কোটি টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুর রাজ্জাকসহ নেতৃবৃন্দ গত শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। বিটিএমসি কর্তৃপক্ষের দরপত্র আহ্বান ও গাফিলতির সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে মিলের এ জমি বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষকে আপিলের আবেদন জানিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যথায় মানববন্ধন, গণঅনশনসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ গ্রামে ১৯৬৫ সালে ২৩ একর দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি উত্পাদন শুরু করে। ১৫ হাজার টাকুবিশিষ্ট মিলের আটশ’ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো লোকসান দিতে শুরু করলেও দোস্ত টেক্সাটাইল মিলটি ছিল লাভজনক। ২০০০ সালের পর এটিও ধীরে ধীরে লোকসানের মুখে পড়তে শুরু করে। তখন বিভিন্ন মেয়াদে ঠিকাদারী চুক্তির ভিত্তিতে মিল চালানো হয়। এতে ঠিকাদার মিলে তুলা সরবরাহ করে উত্পাদিত সুতা বিক্রি করে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করতেন। ২০০৬ ও ২০০৮ সালে মিলটি দু’বার বন্ধ হয়ে যায়। চুক্তিতে ২০১১ সালে অল্প কিছুদিনের জন্য চালু হয়ে বন্ধ হয়।
দোস্ত টেক্সটাইল মিলের ২৩ একর জমির মধ্যে ১২.৭১ একর জমি ডোবা ও গর্ত উল্লেখ করে মাত্র ২ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। অথচ সেখানে কোন ডোবা বা গর্ত নেই। সেখানে অন্তত ২ কোটি টাকা মূল্যের সেগুন, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ৫০ কোটি টাকা মূল্যের স্টাফ কোয়ার্টার, অফিসার কোয়ার্টার, শ্রমিক কলোনীসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান বাজার মূল্য ধরা হলে শুধু বিক্রিত জমির মূল্যই হবে ৭০ কোটি টাকার বেশি।
একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে ২০০৫ সালের শেষদিকে মিলের বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ দোস্ত টেক্সটাইল মিলের ২৩ একর জমির মধ্যে ১২.৭১ শতক জমি তিন ভাগে বিভক্ত করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে দরপত্র আহ্বান করে। দাম কম হওয়ায় বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করে। এতেও ৩টি প্রতিষ্ঠান একটি করে মাত্র ৩টি দরপত্র জমা দেয়। এ সময় স্থানীয় শ্রমিক-কর্মচারীরা মিলের জমি বিক্রির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তখন বিটিএমসি দরপত্র বাতিল করে। এরপর ওই দরপত্রদাতারা ২০০৭ সালে হাইকোর্টে মামলা করে। সম্প্রতি দরদাতাদের পক্ষে মামলায় রায় হয়।