বাহাদুরাবাদ-বালাসী রেল ফেরি দেড় যুগ ধরে বন্ধ
এসএম হালিম দুলাল, জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৪, ২১:৩৭
যমুনা নদীর ভাঙন ও নাব্যতা হ্রাসের অজুহাতে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং গাইবান্ধা জেলার বালাসী ঘাটের মধ্যে রেলওয়ে ফেরি সার্ভিস দেড় যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। এই রুটে ১৯৩৮ সালে তত্কালীন বৃটিশ সরকার প্রতিষ্ঠিত ঢাকা-উত্তরবঙ্গের স্মৃতিবিজড়িত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন রয়েছে।
এতে জামালপুর জেলার সাথে উত্তরবঙ্গের ১৩ জেলার কয়েক কোটি মানুষের স্বল্প সময়ে অল্প খরচে যাত্রী পারাপার, কৃষিপণ্য ডিজেল, সার, সরবরাহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ১৩ জেলার পারাপারে বহু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত্ এ অঞ্চলের মানুষ একটি যমুনা নদীতে সেতু নির্মাণ অথবা পুনরায় রেলফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। নদীতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই ঘাটের সংযোগ চ্যানেল পরিদর্শন করে রেলফেরি সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু এখনও ফেরি সার্ভিস কার্যকর হয়নি। ১৩ জেলার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তত্কালীন বৃটিশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৯৩৮ সালে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের সাথে উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমণিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট ও গাইবান্ধার তিস্তামুখ ঘাটের মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পারাপারে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। যমুনা সেতু চালুর পর ২০০১ সালে তত্কালীন সরকার হঠাত্ করে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র তিস্তা, মেইল, লোকাল ট্রেন ও মালবাহী ওয়াগন ফেরি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এতে রাজধানীর সাথে উত্তরবঙ্গের শত বছরের রেল যোগাযোগের একাংশের পরিসমাপ্তি ঘটে।
বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রায় চার কোটি মানুষের যাতায়াতসহ হাজার হাজার মেট্রিক টন সার, ডিজেল, কয়লা, পাথর, নির্মাণ সামগ্রী, কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্বল্প খরচে অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় যমুনা নদী পারাপার হতে গিয়ে দেড় যুগে প্রায় কয়েক’শ মানুষের পানিতে ডুবে অকাল মৃত্যু হয়েছে। আবার প্রতি বত্সর পারাপার হতে গিয়ে ডাকাতির কবলে পড়ে, তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে জীবন দিতে হয়েছে হতভাগ্য নৌযাত্রীদের। কিছুসংখ্যক মানুষ যমুনা সেতু দিয়ে আড়াই’শ কিলোমিটার পথ ঘুরে ও অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে যাতায়াত করলেও মালামাল পরিবহনে বহুবিধ সঙ্কটে পড়তে হচ্ছ। তাই এ অঞ্চলের মানুষ খরচ ও সময় বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত লোক নৌকাযোগে নদী পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন।
যমুনা বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক এবং চিনাডুলী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়া নৌ ডাকাতদের উত্পাত বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকিও বেড়েছে।