এ কাকে দেখছি? আমার সামনে কে আছেন
মাথা উঁচু করে আকাশঅবধি নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে? দেখি,
অদ্ভুত বিস্ময় নিয়ে আপনার
দেহের কোমল ত্বক ভেদ করে শুধু
সবুজজড়ানো আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারদিক—
বিশ্বস করুন, সেই আলো ছোঁয়া মাত্র আমি পাল্টে যাই দ্রুত,
আমার মনের মধ্যে দীর্ঘদিন পুষে রাখা
বিভেদের অচলায়তন দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ে,
কুটিল বাসনাগুলি হালকা মেঘ হয়ে দূরে
বহু দূরে, দৃষ্টির বাইরে দিগন্তের শেষ রেখা ছুঁয়ে ঝরে
নিরিবিলি। তিনি আর কেউ নন,
এই অভাগার জন্মদাতা, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা।
সত্যি করে বলি—
আপনার স্পর্শে সবুজের রঙ হয়ে আমি জেগে থাকি
সারাক্ষণ, তারপর চলে তুলি আর রঙ নিয়ে খেলা অবিরাম,
একে একে সৃষ্টি হয় অসংখ্য অজেয় কল্যাণের
ধ্যানমগ্ন ছবি, সত্য করে বলুন, এমন
সুন্দর সৃষ্টির বিস্ময় কোথায় পাবো খুঁজে, দেখি
বঙ্গপোসাগরে জেগে ওঠা নিঝুম দ্বীপে বসতি গড়ার স্বপ্ন।
পিতা, আপনার হাতে সে কী এক জাদু—ছোঁয়া মাত্র
মূর্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যানভাস, সবুজের
অপার বিস্ময়—গাঢ়, হালকা ও মসৃণ সেই সবুজের
এমন আশ্চর্য মুগ্ধ কাজ সহসা যায় না দেখা,
নিপুণ হাতের সূক্ষ্ম সেই শিল্পকর্ম নতুন নতুন
উপলব্ধি জড় করে চেতনায়, টের পাই
একটি যৌবনভরা নদী শুয়ে আছে আড়াআড়ি—
তার বুক ছুঁয়ে উঠে আসা গভীর আবেগ
ঢেউয়ে ঢেউয়ে অবিরাম আছড়ে পড়ে পাড়ে,
সচল বাতাসে ওড়ে গাছের বয়সী পাতা, ঘাটে নৌকো
আর কূল থেকে দূরে গ্রাম, মাঝখানে
পুরোটা জমিন জুড়ে সবুজ শস্যের খেত,
সেখানে ধানের কচি ডগা ছন্দ ও মাত্রার শুদ্ধ তাল-লয়ে
বাতাসে ভাসিয়ে দিচ্ছে রাগ-ভৈরবীর ধ্যানমগ্ন সুর—
সীমাহীন সবুজের সেই সমারোহ দেখে
পিতা, আমি পরিষ্কার বুঝি—
এ আমার লালিত স্বপ্নের ভূমি,
উেসর প্রথম শেকড়, প্রিয় বাংলাদেশ।