পশ্চিম সীমান্ত পথে ফের সোনা চোরাচালান বেড়েছে
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৪, ২১:৩৮
পশ্চিম সীমান্ত পথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফের সোনা পাচার বেড়েছে। প্রায়ই এপার-ওপারে বিজিবি ও বিএসএফ’র হাতে সোনার চালান ধরা পড়ছে। ক্যারিয়ারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সোনা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে যায়। তারপর নানা কৌশলে ওপারে পাচার করা হয়। সোনা চোরাচালান রোধে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
সীমান্তের ওপার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ১৯ জুন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর এলাকা থেকে সরাত গাজী ওরফে সোহরাব নামে এক ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ৬০টি সোনার বার উদ্ধার করে বিএসএফ। এ সোনা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ওপারে পাচার করা হয়। অবশ্য তার সাথে থাকা দু’বাংলাদেশি পালিয়ে আসে বলে খবরে জানা যায়। সোনাই নদী পার হয়ে ভারতের হাকিমপুর, গার্বডা, কৈজুরি ও আমুদিয়া সীমান্ত পথে তারা ভারতে প্রবেশ করে। ১৬ জুন বেনাপোল সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে সোনা পাচার করছিল এক সিএন্ডএফ কর্মী। তাকে বিএসএফ আটক করে তল্লাশি করে ৩৭টি সোনার বার উদ্ধার করে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে বশিরহাট সীমান্ত থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে ১৩ কোটি রুপি মূল্যের প্রায় ৪৫ কেজি স্বর্ণসহ ধরা পড়ে বারিক বিশ্বাস নামে এক বড় সোনা পাচারকারি। এ ছাড়া সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সোনার চালান বিএসএফ ও সে দেশের পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে।
এদিকে ২২ জুন ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী একটি বিআরটিসি’র বাস লাউজানি এলাকায় তল্লাশি করে বাসযাত্রী ৫ ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ৩৬টি সোনার বার উদ্ধার করে বিজিবি। বারগুলোর ওজন ৪ কেজি ৪’শ গ্রাম। ২০ জুন রাতে রাজবাড়ির গোয়ালন্দ মোড়ে একটি বাসের যাত্রী দু’জন ভারতীয় নাগরিকের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ডিবি পুলিশ দু’কেজি ৪শ’ গ্রাম ওজনের ৮টি সোনার বার উদ্ধার করে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা যাদবপুর সীমান্ত থেকে এপ্রিল মাসে ঝিনাইদহ র্যাব ২৪টি সোনার বারসহ এক পাচারকারিকে গ্রেফতার করে। সোনার চালানসহ ক্যারিয়ারগণ ধরা পড়ছে। পাচারকারি সিন্ডিকেটের মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিজিবি’র যশোর রিজিয়ন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ২৪ জুন পর্যন্ত পশ্চিম সীমান্ত পথে ভারতে পাচারকালে ১২ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে বিজিবি। ২০১৩ সালে পশ্চিম সীমান্ত পথে পাচারকালে বিজিবি ৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে ছিল। বেনাপোল চেকপোষ্ট ও পার্শ্ববর্তী পুটখালী সীমান্ত পথে বেশি সোনা পাচার হয়ে থাকে।