অনলাইনে ভোটার
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৪, ২২:১৬
অনলাইনেই আগামীতে ভোটার হওয়ার সুযোগ আসছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করেই ভোটারযোগ্যরা ভোটার হতে পারবেন। একইসঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, হারানো পরিচয়পত্র পাওয়াসহ সব ভোটারের বিস্তারিত তথ্য অনলাইনেই জানা যাবে। নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করতে ভোটারদের জন্য এই সুযোগ রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে ইসি। বিভিন্ন দূতাবাসের ভিসার মতো আবেদন করে আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন ভোটার হওয়ার এই সুযোগ মিলবে। এজন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ খসড়া সফটঅয়্যারও প্রস্তুত করেছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলনাতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামীতে অনলাইনে নতুন ভোটারও হওয়া যাবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত সফটঅয়্যারটি কমিশন সভায় উত্থাপন করা হবে। আশা করছি জুলাই থেকে এই অনলাইন সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য মতে, ভিসার মতো অনলাইনে ইসির ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করলে ভোটার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেয়া হবে। ওই সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসলে ভোটার হওয়া যাবে। এজন্য শুধু ঢাকা অফিসে আসতে হবে না। ভোটারযোগ্যরা পছন্দের স্থানের বিকল্প থেকে যে কোন জায়গায় গিয়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথমদিকে দিনে এক হাজারের মতো অনলাইনে ভোটার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটারের পরিচিতি, ভোটার নম্বর ও তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে ইসি। ভোটারদের দেয়া তথ্যগুলোর মধ্যে কোন তথ্য ভুল হয়েছে তা তারা জানতে পারবে। পরে তারা ভুল সংশোধন করার জন্য আবেদনও করতে পারবে। এক্ষেত্রে ভোটাররা রেজিস্ট্রেশন করে প্রাপ্ত পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজ নিজ তথ্য ওয়েবসাইটে দেখতে পারবেন। দেশের ৯ কোটি ১৯ লাখ ভোটারের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে। সব ভোটারই এই সুযোগ নিতে পারবেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)-এর মাধ্যমে এ সেবা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা চালু হলে সব উপজেলা কার্যালয় থেকে একদিনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, আগামী বছরের শুরুতেই সব ভোটারকে স্মার্ট কার্ডের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে চায় কমিশন। এই স্মার্ট কার্ড প্রদানের আগে ভোটারের সব তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিতে অনলাইন এই সেবা চালু করা হচ্ছে। গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন অর্থ বছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন তাতে ‘স্মার্ট’ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়াসহ নয়টি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৭২৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বর্তমানে ভোটারদের ‘লেমিনেটেড পরিচয়পত্র’ দেয়া হয়, যার মেয়াদ ১৫ বছর। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামীতে আধুনিক প্রযুক্তির টেকসই ‘স্মার্টকার্ড’ নামে জাতীয় পরিচয়পত্র বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। কেবল ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত নাগরিকরাই ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ পেয়ে থাকেন। ভোটার তালিকাভুক্ত নন, এমন নাগরিকের পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিধানও নতুন নীতিমালায় যুক্ত করেছে ইসি। জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও অনলাইনে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।