সালাম মুর্শেদির কলাম

লড়াই হবে সমানে সমানে

ব্রাজিল-চিলি ম্যাচ দিয়ে আজ বেলো হরাইজোন্তোয় শুরু হচ্ছে নক আউট রাউন্ডের খেলা। পরের ম্যাচে লুইস সুয়ারেজবিহীন উরুগুয়ে খেলবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। ম্যাচ দুটিতে যথাক্রমে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও আমি বলবো নক আউট রাউন্ডে ফেভারিট নয় কেউই। শুধু এই ম্যাচ নয়, নক আউট রাউন্ডের কোন ম্যাচেই কাগজ-কলমের সমীকরণ খুব বেশি কাজে আসবে বলে মনে হয় না আমার। কারণ, এই রাউন্ডের ষোলটি দলই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই এখানে এসেছে। তাছাড়া, কন্ডিশনের বিষয়টি তো থাকছেই। যদিও টুর্নামেন্টের সময় গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিটি দলই ব্রাজিলের আবহাওয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে থাকবে। প্রায় লাখখানেক স্বদেশী সমর্থকের সামনে ব্রাজিলের অনুপ্রেরণা বা উত্সাহের নিশ্চয়ই কোন অভাব হবে না। দর্শক সমর্থনের কথা বাদ দিলে শক্তিমত্তায়ও এগিয়ে আছে তারা। দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার আছেন দুরন্ত ফর্মে। হাল্ক-অস্কার-ড্যানিয়েল আলভেজরাও আছেন দারুণ ছন্দে। প্রথম দুই ম্যাচে নিজেদের ততটা মেলে ধরতে না পারলেও ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল বুঝিয়ে দিয়েছে, শুধু শুধুই শিরোপার হট ফেভারিট বলা হচ্ছে না তাদের। দু’দলের অতীত মুখোমুখিতার পরিসংখ্যান কিংবা শক্তিমত্তায় চিলি ব্রাজিলের চেয়ে যোজন মাইল পেছনে। তবে আমি আগেও বলেছি বল মাঠে গড়ালে এসব পরিসংখ্যান হয়ে পড়ে মূল্যহীন। মাঠের খেলায় যে ভাল খেলবে সেই জিতবে। নক আউট রাউন্ডের খেলায় এই বিষয়টা আরো বেশি সত্যি। কারণ, গ্রুপ পর্বে হয়তো একটি ম্যাচে খারাপ খেললে পরের ম্যাচে সেটা শুধরে নেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখানে সেটা পাওয়া যাবে না। খুব সতর্ক থাকতে হবে তাই খেলোয়াড়দের। চিলির দলীয় সমঝোতা দারুণ। পাশাপাশি কিছু খেলোয়াড় আছেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও যারা ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। দলের বার্সেলোনা স্ট্রাইকার অ্যালেক্সিজ সানচেজ তেমনই একজন। এই টুর্নামেন্টে গোল পেয়েছেন তিনি, পাশাপাশি গোল করিয়েছেনও। চিলির ভাল করতে হলে সানচেজের আজও জ্বলে ওঠার বিকল্প নেই। যদিও ব্রাজিল ছন্দে থাকলে কোন কিছুই হয়তো শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে না। রাতের অন্য ম্যাচে, উরুগুয়ে খেলবে সি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়ার বিরদ্ধে। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না সুয়ারেজ। সুয়ারেজবিহীন উরুগুয়েকে কলম্বিয়ার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রাখবো আমি। উরুগুয়ের চেয়ে কিছুটা সহজ গ্রুপে পড়লেও কলম্বিয়া তিনটি ম্যাচেই অনায়াসে জয় তুলে নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে শক্তিমত্তায় কোন অংশে পিছিয়ে নেই তারাও। কলম্বিয়ার দলটির টিম স্পিরিট দুর্দান্ত। তাছাড়া তারা ঐতিহ্যগতভাবেই দারুণ লড়াকু। বিশ্বকাপের আগে হঠাত্ করেই চোটের কারণে ছিটকেপড়া দলের সেরা তারকা রাদামেল ফ্যালকাওর অনুপস্থিতিও তাই মোটেই দুর্বল করতে পারেনি তাদের। দেশটির কিংবদন্তী কার্লোস ভালদেরামোর স্টাইলে খেলা জেমস রড্রিগুয়েজ দারুণভাবে পূরণ করছেন ফ্যালকাওর শূন্যস্থান। তিনটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোল করিয়েছেনও এই ২২ বছর বয়সী তরুণ। আজ যদি তিনি জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে উরুগুয়ের জন্য কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে।